হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চসিক মেয়রের মেয়াদ শেষ আজ নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড়

এম কে মনির, চট্টগ্রাম

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ আজ রোববার শেষ হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার থেকে সিটি করপোরেশন কোন পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে, তা এখনো জানায়নি সরকার। তবে কয়েক দিন আগে থেকেই নতুন সিটি নির্বাচনের দাবি করে আসছিলেন বর্তমান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত।

সূত্র জানায়, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরদিনই ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের সবকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। এরপর থেকেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে ঘিরে নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য দলগুলো মেয়র প্রার্থী নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী তালিকাও চূড়ান্ত করছে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল।

এরই মধ্যে নতুন নির্বাচনে দল চাইলে ফের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বর্তমান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত। দলের কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথা জানালেও ডা. শাহাদাতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী এখনো দেখা যায়নি।

এদিকে জামায়াত বা এর জোটের দলগুলো চসিক নির্বাচন জোটবদ্ধ হয়ে নাকি আলাদাভাবে করবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে দুভাবেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দ্রুত সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচন আয়োজনের কথা জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া নির্বাচন কমিশনে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর পর থেকেই সিটি নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চসিকের ষষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম এবং বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন। ওই নির্বাচনে ভোট পড়ে ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ। নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করা হয় রেজাউল করিমকে। তখনই বিষয়টি নিয়ে আদালতে যান ডা. শাহাদাত। রেজাউল করিম ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা করেন। পরে জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী মেয়র ও কাউন্সিলররা পালিয়ে যান। এরপর সে বছরের ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামসহ দেশের ১২ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই বছরের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল ডা. শাহাদাতের মামলার রায় দেয়। এতে ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করা হয়। এরপর ৮ অক্টোবর ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। ১৭ অক্টোবর চসিক থেকে প্রশাসক বাদ দিয়ে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। পরে ৩ নভেম্বর শপথ গ্রহণ এবং ৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চসিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডা. শাহাদাত। তিনি ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর প্রথম সভার মাধ্যমে চসিকের কার্যক্রম শুরু করেন। সে হিসাবে আজ রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি চসিক মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। নিয়ম মতে ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চসিকের নির্বাচন আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু সে নিয়মে ব্যত্যয় ঘটেছে।

এদিকে, চসিক মেয়রের মেয়াদ শেষ হলেও কোন নিয়মে সিটি করপোরেশন পরিচালিত হবে তা জানায়নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন পর্যন্ত বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকেই বহাল রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী সে সুযোগও রয়েছে।

অপরদিকে নির্বাচনের খবরে দলগুলোর মধ্যে চসিক নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানান, দল সিদ্ধান্ত নেবে কাকে মেয়র প্রার্থী করবে। অনেকে ইচ্ছা পোষণ করতে পারেন। আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হোক, তারপর আমরা এসব সিদ্ধান্তে যাব। কাউন্সিলর পদে কারা লড়বেন সেটাও আমরা এখনো ঠিক করিনি।

জামায়াত সূত্র জানায়, দলটি চসিক মেয়র প্রার্থী হিসেবে এখনো কাউকে চূড়ান্ত করেনি। তবে কাউন্সিলর পদে দুয়েকটি বাদে সবকটি ওয়ার্ডে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর আমির ও পরিবেশবিদ নজরুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। এর আগে জামায়াতে ইসলামী কখনো এককভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়নি। দলটির একাধিক কাউন্সিলরের চসিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার রেকর্ড আছে।

জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আমাদের চসিক মেয়র প্রার্থী কে হবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রায় সব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির আমরা মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করব। আর জোট যেহেতু আছে, জোটের বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এসসিপি) চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে ভাবছে। গত শুক্রবার এক বৈঠকে দলটির নেতারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাকে মেয়র প্রার্থী করবে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। এ ব্যাপারে অভ্যন্তরীণ একাধিক পর্যালোচনা চালাচ্ছেন দলটির নেতারা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবার এককভাবে নির্বাচন করবে বলে জানা গেছে। তবে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে তারা কোনো প্রার্থী দেবে না।

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীকে ঘেরাও করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ১

রামগঞ্জ বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন

শহীদ মিনারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শ্রদ্ধা, আটক করতে পারেনি পুলিশ

ভাষা আন্দোলনের চেতনা রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি

গণভোট অস্বীকার করলে সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে: রেজাউল করিম

মতপার্থক্য থাকতে পারে, দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে

কাস্টমসের অভিযানে ২৭০ কার্টন সিগারেট ও ১৫ মোবাইল জব্দ

বেতন-ভাতা না নেওয়ার ঘোষণা কৃষিমন্ত্রীর

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে বাধা, যা বললেন রুমিন ফারহানা

শপথের প্রয়োজন নেই, সংসদে বসামাত্রই হ্যাঁ কার্যকর হবে