হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে উৎসবমুখর নির্বাচনে সর্বাত্মক প্রস্তুতি প্রশাসনের

সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম

টানা ১৭ বছর পর চট্টগ্রামে উৎসবমুখর নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। প্রত্যেক কেন্দ্রে পৌঁছেছে নির্বাচনি সরঞ্জাম। ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু করে রাজপথ ও অলিগলি-সবখানেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরব উপস্থিতি রয়েছে। প্রার্থীরাও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে। বিধিনিষেধ থাকায় কেউ প্রকাশ্যে প্রচার না চালালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে চলেছেন সবাই। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা পোলিং এজেন্ট ও বাইরে বুথের দায়িত্বরত কর্মীদের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দিকনির্দেশনা দিতে দেখা গেছে প্রার্থীদের। এককথায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে গতকাল বুধবার সকাল থেকেই।

নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি উৎসবসুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। পরপর তিনটি সংসদ নির্বাচন পাতানো হওয়ায় সাধারণ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। তাই ভোটারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

এবার প্রচারে পোস্টারের প্রচলন না থাকায় এ উৎসবে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও ভোটের আমেজ প্রকাশ্যে আসে গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে। শহরের প্রতিষ্ঠানগুলো ছুটি হওয়ার পর থেকে দলে দলে মানুষ শহর ছাড়তে শুরু করেন। অনেকটা ঈদের আমেজে ভোট দিতে গ্রামে যাওয়ার এ দৃশ্য আনন্দকে আরো বাড়িয়ে তোলে।

শহরের রেলস্টেশন ছাড়াও নতুন ব্রিজ, অক্সিজেন, একে খান বাসস্ট্যান্ডে গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ছিল ভোট দিতে যাওয়া বাড়িমুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বাড়ি যাওয়ার সময় অনেককেই প্রিয় দলের স্লোগান ও পতাকা তুলে উল্লাস করতে করতে শহর ছাড়তে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর চারটিসহ জেলার মোট ১৬টি সংসদীয় আসনের এক হাজার ৯৬৫ কেন্দ্রে ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে নির্বাচনি সরঞ্জাম। গতকাল বুধবার সকাল ৮টায় এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের নির্বাচনি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে এসব সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেওয়া হয় প্রিসাইডিং অফিসারদের হাতে। এর মধ্যে রয়েছেÑব্যালট পেপার, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, চটের থলি, অমোচনীয় কালির কলম, সিলমোহর, চার্জার লাইটসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এক হাজার ৯৬৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ১২ হাজার ৫৯৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ২৯ হাজার ১৬৫ জন পোলিং কর্মকর্তা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় ১৬ জন করে আনসার-ভিডিপি ও পুলিশ সদস্য থাকবেন। পুলিশ সদস্যরা বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের ভুমিকা সন্তোষজনক। তবে তাদের আরো সতর্ক হতে হবে। কারণ, জনগণ এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আশায় বুক বেঁধে আছে। টানা ১৭ বছর পর সাধারণ মানুষ দেশের মালিকানা বুঝে নিতে মুখিয়ে আছে। ছোটখাটো কারণে মানুষ যেন আশাহত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনে নিজে ও দলের প্রার্থীদের জয়ের ব্যাপারে আশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। এলাকার উন্নয়ন, মানুষের ভাগ্যবদলের স্বপ্নপূরণে ধানের শীষের পক্ষেই ব্যালট বিপ্লব ঘটাবে বলে মন্তব্য করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী জানান, জামায়াতে ইসলাম নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরা ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। জামায়াতের কাছে জনগণের প্রত্যাশা জানতে চেয়েছে। সে অনুযায়ী কেন্দ্র থেকে ইশতেহারও ঘোষণা করেছে। জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোটের মাঠে রব উঠেছে। ব্যালটের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটবে। ভোটাররা কেউ আর প্রতারিত হতে চায় না। তাই জনগণের রায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষেই থাকবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতি আমরা ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকেই নিচ্ছি। ফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে তার সমাপ্তি ঘটবে। আমরা প্রতিটি ভোটারের কাছে বার্তা পৌঁছেছি যে, তারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন। প্রশাসন সবার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে। ভোটাররাও আশ্বস্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও তফসিল ঘোষণার পর থেকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি আছে। কোনো দুর্বৃত্ত নির্বাচনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচন অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১১৫ জন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকছেন।

নির্বাচনি প্রচারে যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছেন, একই ভাবে ফল প্রকাশের পরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করেন বিভাগীয় কমিশনার জিয়া উদ্দিন।

আনোয়ারায় ভোটকেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের দীর্ঘ লাইন

ভোট দিলেন বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ

নিজের কেন্দ্রে ভোট দিলেন হামিদুর রহমান আযাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভোটগ্রহণ চলাকালে পোলিং অফিসারের মৃত্যু

চট্টগ্রাম-৪ ধীরগতিতে চলছে ভোটগ্রহণ, দীর্ঘ হচ্ছে ভোটারের লাইন

ভোটের ব্যাপারে শতভাগ জয়ের আশা এ্যানির

লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ

আমরা যে কোনো শংকামুক্ত থাকতে চাই: হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লায় তরুণ ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি

সমুদ্র শহরে ভোটগ্রহণ শুরু