বিপর্যস্ত জনজীবন স্থবির স্বাস্থ্যসেবা
সোমবার দিবাগত রাতে শুরু হওয়া তীব্র ঝড়ো বাতাসে অচল হয়ে গেছে সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা। দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় অন্ধকারে ডুবে আছে দ্বীপবাসী। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে দক্ষিণ সন্দ্বীপের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা সম্ভব হলেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উত্তর সন্দ্বীপের বিশাল এলাকা এখনো বিদ্যুৎহীন। এতে বাউরিয়া, গাছুয়া, কালাপানিয়া, সন্তোষপুর ও দীর্ঘাপাড় ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলো। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস আমার দেশকে জানান, দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ওয়ার্ডে থাকা রোগীরা সীমাহীন কষ্ট পাচ্ছেন। নেবুলাইজার বা জরুরি মেশিনগুলো চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সর্বশেষ জানতে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। ফলে মেরামত কাজ কতদূর বা কখন বিদ্যুৎ ফিরবে, তা নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
ব্যবসায়িক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে আকবর হাটের ক্ষুদ্র কোল্ড স্টোরেজ মালিক সোহরাব আমার দেশকে জানান, ফ্রিজে রাখা হাজার হাজার টাকার পচনশীল পণ্য নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি। নাজিরহাটের ব্যবসায়ী হান্নান তারেক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় কাস্টমার নেই, সারাদিন দোকান অন্ধকার হয়ে থাকে। এভাবে চললে আমাদের ব্যবসায়িক বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।
বিদ্যুৎহীনতায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক দুর্ভোগের কথা জানিয়ে গাছুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এম এইচ রানা বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছে। কালাপানিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহিন তার দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, গতকাল রাত থেকে আমরা পুরোপুরি অন্ধকারে। মোবাইল চার্জ নেই। ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস সব গন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
দ্বীপবাসীর দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ সংস্কারের জন্য যেন কার্যকর ও আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যাতে সামান্য ঝড়ে এমন দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।