সীতাকুণ্ডে অনিরাপদ মহাসড়ক, জনভোগান্তি চরমে
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সিটি গেইট থেকে বড়দারোগারহাট পর্যন্ত প্রায় ৩৭ কিলোমিটার মহাসড়ক জনসাধারণের জন্য মৃত্যুর ফাঁদ ও অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং ও উল্টোপথে যানবাহন চলাচলসহ অদক্ষ ড্রাইভারদের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাতদিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ সময় দুর্ঘটনা ও যানজট লেগেই থাকে।
অন্যদিকে, কনটেইনার ডিপোতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী শত শত গাড়ি মহাসড়কের ওপর অবৈধ পার্কিং করায় দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী গাড়ি। পুলিশ জানিয়েছে, সড়কের এসব অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে মামলা দিলে পুলিশকে চাঁদাবাজ বলে অ্যাখ্যা দিচ্ছে ড্রাইভার ও কনটেইনার ডিপো মালিকরা।
বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত দুই স্থানে ৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানায়। এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়- সড়কের ওপর অবৈধ কনটেইনার ডিপো গাড়ি পার্কিং, অদক্ষ ড্রাইভার ও সড়কের আইন না মেনে উল্টোপথে যানবাহন চলাচলকে।
জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ডোনার ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমানের মালিকানাধীন সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপো ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী পতিত সরকারের ডোনার শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন ভাটিয়ারী ইউনিয়নে পোর্ট লিংক কনটেইনার ডিপো, কুমিরা ইউনিয়নে কেডিএস কনটেইনার ডিপো ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে ইস্পাহানী কনটেইনার ডিপোসহ শিল্প মালিকদের মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে একাধিক কনটেইনার ডিপো। এসব কনটেইনার ডিপোতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী শত শত গাড়ি মহাসড়কের ওপর গাড়ির অবৈধ পার্কিং করে রাখেন। একইভাবে অদক্ষ ড্রাইভার ও সড়কের আইন না মেনে উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে মহাসড়কে মারাত্মক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ও যানজটে নাকাল সড়কে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। চট্টগ্রামের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল সীতাকুণ্ড দিয়ে বয়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন জনসাধারণের জন্য নিরাপদ পথ নয়, বরং এক ভয়ংকর ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এই অনিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির পেছনে বড় দায় হিসেবে উঠে এসেছে হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা। সম্প্রতি হাইওয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় হওয়ায় মহাসড়কে জনদুর্ভোগ ও যানজট কিছুটা কমে এসেছে। গত সপ্তাহে মাত্র দুদিন বার-আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি আব্দুল মমিন মহাসড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং না করতে মাইকিং করেছেন এবং অবৈধ পার্কিংয়ের জন্য জিপিএইচ কারখানার গাড়িসহ ২৫টি গাড়িকে মামলা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন সড়কের ওপর অবৈধভাবে পার্কিং করার ড্রাইভারদের জরিমানা করেছে।
সড়কের পাশে গড়ে উঠা ছোট্ট বড় প্রায় ১৫টি কনটেইনার ডিপো ও ট্রাক টার্মিনালের শত শত গাড়ি অবৈধভাবে সড়কের ওপর পার্কিং করার কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে গেছে। ফৌজদারহাট পোর্ট কানেক্টিং সড়ক ও মহাসড়কের সংযোগস্থলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির রয়েছে। অপরদিকে মহাসড়কে যানজট নিরসনে ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বার-আউলিয়া হাইওয়ে ও কুমিরা হাইওয়ে পুলিশের দুটি থানা রয়েছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের দায়িত্বহীনতার কারণে মহাসড়কে প্রায় সময় যাত্রীদের দুর্ভোগ ও সড়কে দূর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে মহাসড়কে চাঁদাবাজিতে বেশি ব্যস্ত থাকেন।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল মমিন আমার দেশকে বলেন, হাইওয়ে পুলিশের দুটি গাড়ি সার্বক্ষণিক সড়কে যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। উল্টাপথে গাড়ি চালানো এবং মহাসড়কের ওপর বিশেষ করে চারটি কনটেইনার ডিপোর গাড়ি সড়কের ওপর পার্কিং করার কারণে জনদুর্ভোগ ও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। গত ১৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার মাদাম বিবিরহাট এলাকায় একই সময় দুটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং রোববার বাড়বকুণ্ড, শুকলালহাট ও বাঁশবাড়িয়ে এলাকায় তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনার কারণেও মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, অদক্ষ ড্রাইভার এবং গাড়ি চালানোর সময় প্রতিযোগিতা দিতে গিয়েও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সড়কের ওপর অবৈধ পার্কিং করায় জিপিএইচ এর তিনটি গাড়ি সহ ২৫টি গাড়ির ড্রাইভারকে মামলা দেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন মহাসড়কের যানজট ও জনদুর্ভোগ নিরসনে সড়কের ওপর পার্কিং করা গাড়ির ড্রাইভারকে জরিমানা করছেন।
কুমিরা হাইওয়ে থানার ওসি জাকির রাব্বানী আমার দেশকে বলেন, আমরা সুশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গিয়ে সড়কের এসব অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে মামলা দিলে পুলিশকে চাঁদাবাজ বলে ড্রাইভার ও কনটেইনার ডিপো মালিকরা।