নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে একজন নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত এ অভিযোগ দেন তিনি।
অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এবং ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।
লিখিত অভিযোগে মনির কাসেমী বলেন, ফতুল্লা থানার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়ন এবং সদর থানার গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় নির্বাচনি কার্যক্রম চলমান থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন না। নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এবং ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতিত্ব করছেন।
মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর দাবি, এ দুই পুলিশ কর্মকর্তা একটি পক্ষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে বিশেষ সুবিধা প্রদান করছেন এবং একটি বিত্তশালী ও প্রভাবশালী শিল্পপতি প্রার্থী ও তার কর্মীদের প্রতি প্রকাশ্য পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। এর ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি, উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনি প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পরিপন্থি এবং নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অভিযোগপত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, ‘আমরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছি। আমরা নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসন ভাগ করে কাজ করছি। আমার দায়িত্ব নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বন্দর এলাকা। ফতুল্লায় যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাছাড়া কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব, সেই সুযোগও নেই।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।