গত ২১ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আমার দেশ অনলাইনে ‘ভুয়া চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ডাকাতি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদ প্রকাশের পর মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে ডাকাতির ঘটনায় মামলা নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।
শনিবার আব্দুস সোবহান আকন্দ নামে মাইক্রোবাসের যাত্রী বাদি হয়ে রায়পুরা থানায় এ মামলা করেন। অন্যদিকে ডাকাতির শিকার ভুক্তভোগীদের অসহযোগিতা ও দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হওয়ায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার দুই পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে বলে খবর উঠে এসেছে গণমাধ্যমে।
মামলার অভিযোগে আব্দুস সোবহান আকন্দ উল্লেখ করেন, ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের ৫ সদস্যদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত পৌনে ১টায় তাদের গাড়িটি রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদে পৌঁছালে দেখতে পান মহাসড়কের মাঝে একটি প্রাইভেটকার আড়াআড়ি এবং পাশে আরও কয়েকটি ট্রাক দাঁড়ানো ছিল। সেখানে মাইক্রোবাসটি থামানোর সাথেসাথে মুখোশ পড়ে ১০ থেকে ১২জন ডাকাত সদস্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গাড়িতে ভাঙচুর এবং দুই যাত্রীকে মারধর করে। এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যাত্রীদের কাছ থেকে ৪টি মোবাইল, সোনা ও রুপার গহনাসহ নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেন তারা।
আব্দুস সোবহান আকন্দ মুঠোফোনে বলেন, ওই রাতে ঘটনার পর ভৈরব থানায় গিয়ে অভিযোগ দিতে চাইলে পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তাদের অধীনস্থ এলাকায় নয়। এরপর অভিযোগ গ্রহণ না করে তাদের রায়পুরা থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তারপর ভুক্তভোগীরা অভিযোগ না দিয়েই রাতের মধ্যে গন্তব্যে চলে যান।
ওই রাতে ভৈরব থানার এসআই মো. ফরিদুজ্জামান ও এএসআই দেলোয়ার হোসেনের দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে শনিবার কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়।
রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে জানান তিনি।