যাত্রীসহ ফেরিতে তোলা হচ্ছে বাস
‘নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিতে কোনো অবস্থাতেই যাত্রীসহ বাস তোলা যাবে না’—নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর নির্দেশনা মানছেন না বাসচালক ও যাত্রীরা।
সম্প্রতি দৌলতদিয়ার ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পর নৌ দুর্ঘটনা ও ফেরি পারাপারে ঝুঁকি এড়াতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়, এখন থেকে ফেরিতে বাস তোলার আগে অবশ্যই শতভাগ যাত্রী বাস থেকে নামিয়ে দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যাত্রীসহ বাস ফেরিতে তোলা যাবে না।
কিন্তু গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) পাটুরিয়া ঘাট সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, বাসের প্যাসেঞ্জারদের না নামিয়েই বাসগুলো ফেরিতে তোলা হচ্ছে। অনুসন্ধান ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গঠিত দলের পাটুরিয়া ঘাটে অবস্থানকালে দেখা যায়—ঢাকা মেট্রো ১৫-৫৯৬৯, ঢাকা মেট্রো ১৫-২৯০০, ঢাকা মেট্রো ১৫-৬০১৩, ঢাকা মেট্রো ১৫-৬১৩, ঢাকা মেট্রো ১৫-৭৮৭৮ বাসগুলো যাত্রীবোঝাইসহ রো-রো ফেরি কেরামত আলী ও শাহ মখদুম ফেরিতে উঠছে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা সুব্রত রায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীর নির্দেশ আমরা যথাযথভাবে পালন করছি। আমরা ঘাটে ঠিকমতো তদারকি করছি। কিন্তু যাত্রীদের সচেতনতার অভাবে তাদের গাড়ি থেকে নামানো যাচ্ছে না।’
একই বিষয়ে পাটুরিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি নিজে ঘাটে থেকে যাত্রী নামানোর বিষয়টা তদারকি করেছি। এ ছাড়া জামাল হোসেন নামের একজন ব্যবস্থাপককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি যাত্রী নামানোর বিষয়টি তদারকি করছেন।’ কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। কোনো গাড়ি থেকেই যাত্রীদের নামানো সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলেও তেমন কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পড়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এ দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে।