রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে একটি পেট্রলপাম্প থেকে জোর করে তেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির চাপায় নিহত হন রিপন সাহা (৩০) নামে পাম্পের এক কর্মচারী।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পেট্রল পাম্পের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাই করে জানা যায়, ওই গাড়ির মালিক পদত্যাগী যুবদল নেতা আবুল হাসেম সুজন এবং তার ড্রাইভার কামাল। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে পুলিশ তৎপর হয়।
শুক্রবার রাতে সুজন ও তার ড্রাইভার কামাল হোসন সরদারকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিনই রিপন সাহার ছোট ভাই প্রতাপ সাহা বাদী হয়ে আবুল হাসেম সুজন ও ড্রাইভার কামাল হোসেন সরদারের নামে রাজবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দয়ের করেন।
এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত সাবেক পদত্যাগী যুবদল নেতা আবুল হাসেম সুজন নামে এক সন্ত্রাসী। সুজনের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামে। তার পিতার নাম জনাব আলী।
প্রত্যক্ষদর্শী পাম্পের অন্য কর্মচারী নজরুল ইসলাম জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একটি প্রাইভেট কারে দুজন এসে তেল চা়ন। গাড়িতে তারা ৫ হাজার টাকার তেল ঢোকান। এ সময় টাকা চাইতে গেলে তিনি রাগান্বিত হয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করেন। একপর্যায়ে গাড়ি টান দিয়ে যাওয়ার সময় কর্মচারী রিপন গাড়ির পিছু নেযন। তখন ড্রাইভার গাড়ি ব্যাক গিয়ারে নিয়ে রিপনকে চাপা দিয়ে চলে যাযন। এতে মাথা থেঁতলে রিপন ঘটনাস্থলেই মারা যাযন। রিপনের বাবার নাম পবিত্র সাহা। বাড়ি খানখাপুর ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রামে।
রাজবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ খোন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, আবুল হাসেম সজুনের নামে অস্ত্র, মাদক মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা আছে। তিনি অনেকবার জেল খেটেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবুল হাসেম সুজন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ঠিকাদারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ২০১৯ সালে লাভের জন্য যুবদল থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তার জীবনযাপন ছিল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়ানো। কয়েকবার অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর নানা কৌশলে বের হয়ে আসেন।
বিভিন্ন পত্রিকায় যুবদলের নাম জড়িয়ে সংবাদ ছাপা হওয়ায় এর প্রতিবাদ করেছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লা আল মামুন সম্রাট খান । তিনি বলেন, সুজন ২০১৯ সালে সংবাদ সম্মেলন করে যুবদল ও বিএনপি ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বর্তমান তিনি বিএনপি বা যুবদলের কেউ নন।