মাদারীপুর-১ আসনে সমালোচনার ঝড়
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তারের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ সাবেক আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর কবর জিয়ারত করলেন। একে কেন্দ্র করে দলীয় অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শিবচরের সাবেক আওয়ামী লীগের চিফ হুইপ ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন। মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আপন ফুফাতো ভাই এবং আওয়ামী লীগের একজন ঘনিষ্ঠ ও ক্ষমতাধর নেতা ছিলেন।
এই কবর জিয়ারতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিবচরের বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার যে দমন-পীড়ন, নির্যাতন, গুম-খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়ন চালিয়েছে—তার অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন সাবেক সংসদের চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী।
বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, যে পরিবার ও গোষ্ঠী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের কবর জিয়ারত করা খাঁটি বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে যারা হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের অনুভূতিতে এই ঘটনা আঘাত করেছে। এতে সাধারণ জনগণের মাঝেও ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যেসব নেতাকর্মী রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ক্ষমতার সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের কবর জিয়ারত বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
তবে এ বিষয়ে এখনো দলীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এমন বিতর্ক বিএনপির ভেতরের ঐক্য ও জনসমর্থনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নাদিরা আক্তারের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগ করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা বিএনপির নেতারাও এ বিষয়ে কথা বলেননি।