অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
জামায়েতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি বলে তারা সব করে দিবে, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড।’ ভুয়া কথারও একটা লিমিট থাকে। মানুষ দেশে ১৮ কোটি, তারা বলে ৫০ কোটি কার্ড দিবে! এরআগেও তারা বলেছিলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে বেকার ভাতা দিবে। বিনামূল্যে কৃষককে সার দিবে।’ অনেক ওয়াদা করেছিল। যা পরে সব ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। এ হলো শেখ হাসিনার দশ টাকা কেজি চালের মত। বাংলাদেশের মানুষ এগুলো পছন্দ করে না।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জনসভায় এসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, দলীয়করণ, ন্যায়বিচারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আদালতে মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে লুটপাট করা হয়েছে। ভিন্ন মতের উপর দমন-পীড়ন করা হয়েছে। কোর্ট কাচারিকে স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া হয়নি। খুনি, মাদক ব্যবসায়ী, ধর্ষণকারী, চাঁদাবাজ-মাস্তানরা প্রকাশ্যে অপরাধ করেছিল, খুন করেছিল। বুক ফুলিয়ে তারা ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে নাই। অন্যদিকে নেক মানুষগুলোকে গ্রেপ্তার করে বছরের পর বছর কারাগারে রাখা হয়েছিল। তাদের জামিন হয় নাই। পুলিশ সত্যিকার কোন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করলেও ২/৩ দিন পর কোর্ট তাদেরকে জামিন দিয়েছে।
গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে নানা কারণে নারায়ণগঞ্জ আলোচিত-সমালোচিত। এখানকার একজন (শামীম ওসমান) যিনি নিজেকে অত্যন্ত নির্ভীক লৌহমানব বলে দাবি করতেন, এই নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডেই লিখে রেখেছিলেন এখানে জামায়েত নেতাদের প্রবেশ নিষেধ। মহান আল্লাহ তা-আলার কি ইচ্ছা কি ইচ্ছা, যেখানে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ, সেখানে আল্লাহ তা-আলা তাকেই নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন।
আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের জামায়েতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে স্ব-স্ব দলের প্রতীক তুলে দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বার, মহানগরী সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ, জেলা আমির মমিনুল হক সরকার, নারায়ণগঞ্জ- ১ আসনের জোট প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা (দাড়িপাল্লা), ২ এর জোট প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লা (দাঁড়িপাল্লা), ৩ এর জোট প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া (দাড়িপাল্লা), ৪ এর জোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন (শাপলাকলি), ৫ এর জোট প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন (দেয়াল ঘড়ি) হাজারও নেতাকর্মী।