হোম > সারা দেশ > ঢাকা

ভরা মৌসুমে কাঁঠালের জমজমাট বেচাকেনা

এসএম জহিরুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর)

শ্রীপুরে বাগান থেকে সংগ্রহ করা কাঁঠাল বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

জাতীয় ফল কাঁঠালের ভরা মৌসুমে গাজীপুরের শ্রীপুরজুড়ে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। গাছে গাছে ঝুলছে পাকা কাঁঠাল, আর বাগান থেকেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে পুরো মৌসুমের ফলন। মিষ্টি স্বাদ, মনমাতানো সুগন্ধ ও উন্নতমানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ছুটে আসছেন শ্রীপুরে। ফলে কৃষক, বাগান মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য।

কাঁঠালের রাজধানীখ্যাত গাজীপুরের চারটি উপজেলায় কাঁঠাল উৎপাদন হলেও সবচেয়ে বেশি চাষ হয় শ্রীপুরে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, স্বাদ ও ঘ্রাণের স্বকীয়তার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে গাজীপুরের কাঁঠাল ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের মর্যাদা লাভ করে। এরপর থেকে দেশজুড়ে শ্রীপুরের কাঁঠালের চাহিদা আরো বেড়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বছরে গড়ে প্রায় ৭৮ হাজার টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। খাজা, গালা ও দুরসা জাতের কাঁঠাল এখানে বেশি চাষ হয়। চলতি মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে খাজা জাতের কাঁঠাল ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

উপজেলার জৈনাবাজার অঞ্চলের সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট হিসেবে পরিচিত। এছাড়া টেংরা, উজিলাব, নগরহাওলা, চকপাড়া, টেপিরবাড়ি, রাজাবাড়ি, ছাতির বাজার, কেওয়া ও চন্নাপাড়া এলাকায়ও কাঁঠাল বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। প্রতিদিন শত শত কাঁঠাল ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

জৈনাবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, মাঝারি আকারের ১০০ কাঁঠালের একটি লট পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় কাঁঠাল সাত থেকে আট হাজার টাকা এবং ছোট কাঁঠাল তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা ভালো থাকায় কৃষকরাও সন্তুষ্ট।

কৃষিবিদদের মতে, শ্রীপুরের মাটি ও জলবায়ু কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বারি-১, বারি-২, বারি-৩, বারি-৪ ও বারি-৫সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের কাঁঠাল চাষ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব জাত উচ্চফলনশীল, সুস্বাদু এবং বাণিজ্যিক চাষের জন্য উপযোগী।

শ্রীপুরের কাঁঠালের পাইকার কাজল ঢালী জানান, চলতি মৌসুমের শুরুতেই তিনি শতাধিক কাঁঠালগাছ কিনে রেখেছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব কাঁঠাল সরবরাহ করছেন। তার ভাষায়, ‘শ্রীপুরের কাঁঠালের মিষ্টতা ও সুগন্ধ অন্য এলাকার তুলনায় আলাদা। এ কারণেই এর চাহিদা বেশি। ঢাকা থেকে কাঁঠাল কিনতে আসা ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রীপুরের কাঁঠাল বাজারে খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। ক্রেতারা নাম শুনেই কিনতে আগ্রহ দেখান। মিষ্টি স্বাদ ও সুগন্ধের কারণে এর আলাদা কদর রয়েছে। উজিলাব এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন ইসলাম বলেন, নতুন করে কাঁঠাল রোপণে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। তা না হলে একসময় গাজীপুর তার কাঁঠালের ঐতিহ্য হারাতে পারে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, কাঁঠাল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে আমরা কাজ করছি। কাঁঠালের আচার, চিপস ও রেডি-টু-কুক পণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি বাড়ানোর জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা কাঁঠালগাছ কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এএস

শিবপুরের লটকন যাচ্ছে বিদেশে, স্বাবলম্বী চাষিরা

শরীয়তপুরে আ.লীগের ঝটিকা মিছিলের পর এবার পোস্টারিং

নিকলী হাওরে বজ্রপাতে নৌকার মাঝি নিহত

মুন্সীগঞ্জে দেশের প্রথম ‘ক্যাশলেস’ জেলা কারাগারের কার্যক্রম শুরু

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলায় আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে বিএনপি এমপির ছেলে

সিংগাইরে নিখোঁজের ৬ দিন পর স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার

সালিশে তর্ক থামাতেই ধমকের স্বরে কথা বলেছি

পুলিশকে ‘মাইরা ফালামু’ হুমকি দিয়ে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

ডিবি হেফাজতে অসুস্থ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী, হাসপাতালে মৃত্যু