গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার মৃত্যুতে এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত তুবা ইসলাম তোহা মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের মেয়ে। রোববার বাদ আসর শিশুটির আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ শিশুটির জ্বর দেখা দেয়। পরদিন জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও চিকিৎসা নেওয়া হয়, কিন্তু অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
পরিস্থিতি গুরুতর হলে ২৬ মার্চ সকালে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা শিশুটিকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির মা নাজমা বেগম জানান, চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পিতা তুহিন শেখ বলেন, “সব চেষ্টা করেও মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না।”
স্থানীয় স্বাস্থ্য সহকারী খোরশেদা মল্লিক ডলি জানান, শিশুটিকে নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়েছিল। অসুস্থ থাকায় নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচএন্ডএফপিও ডা. রায়হান ইসলাম শোভন জানান, গত তিন বছরে উপজেলায় হামের কোনো নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাম একটি সংক্রামক রোগ হলেও এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সঠিক কারণ উদঘাটন জরুরি, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি না ছড়ায়।
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ শিশুটির চিকিৎসাসংক্রান্ত সব নথি ও উপসর্গ বিশ্লেষণ করে কেস স্টাডি প্রস্তুত করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।