মাদারীপুরের রাজৈরে সালিশের নামে ডেকে নিয়ে ফল ব্যবসায়ী জাকির শেখকে কুপিয়ে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পৃথক দুটি অভিযানে গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জ থেকে তাদের আটক করা হয়।
র্যাব-৮, সিপিসি-৩ মাদারীপুর ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, রাজৈর থানার তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৪ মার্চ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার আমগ্রাম মধ্যপাড়া (গোলপাড়া) এলাকায় জায়গা জমি ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এজাহার অনুযায়ী, বাদী রেখা বেগমের মেয়ের জামাই রাসেল কাজী ব্যবসার কাজে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ১নং আসামি ইলিয়াস খানসহ একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
বিষয়টি জানতে পেরে বাদী ও তার স্বামী জাকির শেখ ঘটনাস্থলে গেলে আসামিরা তাদের ওপরও হামলা করে। এ সময় ইলিয়াস খান ধারালো অস্ত্র দিয়ে জাকির শেখকে গুরুতর জখম করে।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন ২৪ মার্চ রাজৈর থানায় মামলা নং-২৯ দায়ের করা হয়। মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আমার দেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাব-৮ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে।
এর ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাজীপুরের সালনা বাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় ৪নং আসামি শাহাদাৎ খান (৫১)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার দয়াহাটা বাজার এলাকায় যৌথ অভিযানে মামলার ১নং আসামি ইলিয়াস খান (৪৫), ৯নং আসামি পলাশ মোল্লা (২৩) এবং ১২নং আসামি সোনিয়া বেগম (৩৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের শ্রীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তারা সবাই রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের রাজৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করলে দুপুরের দিকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।