টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে হাত ভেঙে দিয়েছে চাঁদাবাজরা। একই সঙ্গে তার দোকানসহ মোট চারটি দোকান ভাঙচুর করার তথ্য পাওয়া গেছে।
রোববার বিকেলে মধুপুর উপজেলার পৌরসভাধীন ২নং ওয়ার্ড জটাবাড়ী (মহিষমারা মোড়) বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী আহত রফিকুল ইসলাম জানান, পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল খালেকের ছেলে রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ জটাবাড়ী (মহিষমারা) মোড় বাজারে পাটের তৈরি খালি ছালা (বস্তার) ব্যবসা করে আসছেন।
গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সরকার পতনের পর থেকে জটাবাড়ী চেয়ারম্যান বাড়ী মোড় এলাকার হাবিব, মানিক, মুক্তার, নিঝুম ও আবদুল্লাহসহ কয়েকজন মিলে নিয়মিত আমার দোকানে এসে টাকা চাইতো। মাঝে মধ্যে আমি তাদেরকে ৪/৫ হাজার করে দিতাম। কিন্তু ঘটনার দিন বিকেলে আমি বস্তা বিক্রি করে টাকা নিয়ে দোকানে অবস্থান করছি এমন সময় ওরা দলবল নিয়ে এসে আমার নিকট ৯০ হাজার টাকা দাবি করে।
আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে সকলে মিলে আমার ওপর আক্রমণ করে আমার বাম হাত ভেঙে দেয় এবং আমার কাছে থাকা ৭ লাখ টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় দোকানের সিসি ক্যামেরা, মনিটর, টেবিল, গ্লাসসহ আসবাব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, বিকেল বেলায় বাজারে রফিকের দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি মানিক, মুক্তার ও নিঝুমরা এসে রফিকুলের নিকট টাকা চাচ্ছে। টাকা দিতে না চাইলে দোকানদাকে ওরা সবাই মিলে মেরে তার হাত ভেঙে দেয়। এছাড়া বাজারে চায়ের দোকানসহ আরো তিনটি দোকান ভাঙচুর করে তারা।
অপর একজন জানান, তারা বাজার থেকে যাওয়ার সময় বলে যায় এখানে ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিয়ে করতে হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মানিক ও হাবিবের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, রফিকুলের অভিযোগ ভিত্তিহীন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার হাত ভেঙে গেছে। দোকান ভাঙচুরের বিষয়ে তারা জানান, মানিক মিয়াকে রফিকুল ইসলাম অপমান করার কারণে এলাকার ছোট ভাইয়েরা রাগান্বিত হয়ে এই কাজ করছে।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার রাতে মধুপুর থানার ওসি এ কে এম ফজলুল হক জানান, দোকান ভাঙচুর ও মারপিটের ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ