দেশের কৃষিতে নতুন নতুন প্রযুক্তির আবিষ্কার ও ব্যবহারের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে গরু দিয়ে হালচাষ। কালের পরিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় কৃষিকাজ ও চাষের ক্ষেত্রে এসেছে অনেক পরিবর্তন। এখন আর আগের মতো লাঙল ও গরু দিয়ে হাল চাষ করতে দেখা যায় না। জমি চাষের প্রয়োজন হলেই পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে কৃষকরা জমি চাষাবাদ করছেন। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গরু, মহিষ, লাঙল ও জোয়াল দিয়ে হাল চাষ।
সারা দেশের মতো কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরেও একসময় কৃষিকাজে ব্যবহার করা হতো হাল, লাঙল ও মই। কালের আবর্তে আধুনিকতার যুগে যান্ত্রিকতানির্ভর চাষের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের ধারক গরুর লাঙল। তবে গত সোমবার হোসেনপুর উপজেলার জগদল গ্রামের এক কৃষককে গরু ও লাঙল দিয়ে ধানের বীজতলা প্রস্তুত করতে দেখা গেছে।
একসময় এ উপজেলায় দেখা যেত সেই কাকডাকা ভোরে কৃষকরা গরু ও কাঁধে লাঙল-জোয়াল নিয়ে বেরিয়ে যেতেন মাঠে। বাঁয়ে-ডানে হুট-হাট শব্দে গরুকে তাড়া করে জমিতে হাল চাষ করতেন। নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হাল চাষ করে তারা সংসারের ব্যয়ভার বহন করতেন। হালের গরু দিয়ে দরিদ্র মানুষ জমি চাষ করে ফিরে পেতেন তাদের পরিবারের সচ্ছলতা। কৃষকরা মাঠের প্রান্তরে হালচাষ করতেন, কেউবা জমিতে বীজ বপন করতেন। জমির চাষের ক্ষেত্রে গরুর হাল ও মই ব্যবহার করে বীজ বপন করে সোনার ফসল ঘরে তুলে আনতেন কৃষক।
সরেজমিনে হোসেনপুর উপজেলার জগদল গ্রামের কৃষিমাঠে গিয়ে দেখা গেছে, বিলুপ্তপ্রায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর লাঙল দিয়ে এক কৃষক জমি চাষ করছেন। তার নাম শহীদ মিয়া। তিনি জানান, হাল চাষের জন্য এক জোড়া বলদ গরু, লাঙল-জোয়াল, মই, গরু তাড়ানোর লাঠি ও গরুর মুখের টোনা লাগে। এখন পাওয়ার টিলারে জমি চাষাবাদ শুরু হওয়ায় গরু দিয়ে হাল চাষ হয় না বললেই চলে।
তিনি আরো জানান, লাঙল দিয়ে মাটির গভীরে গিয়ে মাটি তুলে উল্টিয়ে রাখা হলে জমিতে ঘাস কম হতো, আর হাল চাষের সময় গরুর গোবর সেই জমিতেই পড়ত। এতে একদিকে যেমন জমিতে জৈব সারের চাহিদা পূরণ হতো, তেমনি ফসলও ভালো হতো। পাওয়ার টিলারের প্রচলন হওয়ায় গরু দিয়ে হাল চাষের কদর কমে গেছে।
হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একেএম শাহজাহান কবির জানান, উপজেলায় চরাঞ্চলে এখনো গরু ও লাঙল দিয়ে জমি চাষাবাদ করতে দেখা যায়। লাঙলে জমির চাষাবাদে জমির উর্বরতাশক্তি বৃদ্ধি পায়