সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন। তিনি ২ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫টি কাষ্টিং ভোটের মধ্যে একাই পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট।
তার এই নিরঙ্কুশ বিজয়ে উচ্ছ্বসিত মানিকগঞ্জবাসী এখন তাকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. জামিলুর রশিদ খান বলেন, আফরোজা খানম রিতা শুধু একজন সংসদ সদস্য নন, তিনি মানিকগঞ্জের উন্নয়ন ও মানুষের আস্থার প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও কর্মসংস্থান খাতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে মানুষের পাশে থেকেছেন। তাকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলে মানিকগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিজ্ঞ পিপি নুরতাজ আলম বাহার বলেন, দলের দু:সময়ে বিএনপির যে কোন কর্মসূচি সফলভাবে পালন করায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এছাড়া বিএনপির বিভাগীয় অনেক কর্মসূচিও রিতা আপার সার্বিক সহযোগিতায় মানিকগঞ্জে হয়েছে। মানিকগঞ্জ-৩ আসনের মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তা ঐতিহাসিক। এই জনসমর্থনের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। রিতা যদি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হন, তাহলে এই এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
পৌর বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ যাদু বলেন, বিএনপির জন্য নিবেদিত হয়ে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি যেভাবে দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের আপদে-বিপদে পাশে থেকেছেন। তার মতো ভালো মানুষ মন্ত্রী হলে দেশের উন্নয়ন হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম আবেদিন কায়সার বলেন, মানিকগঞ্জ ঢাকার এত কাছে থেকেও তেমন কোন উন্নয়ন নেই। মানিকগঞ্জবাসী নানা সমস্যায় জর্জরিত। এই সমস্যার সমাধান করতে হলে মানিকগঞ্জে একজন মন্ত্রীর প্রয়োজন। তাই আমরা দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে বিনীত আবেদন করছি, আমাদের নেত্রী আফরোজা খানম রিতাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী করে জেলার উন্নয়ন করার সুযোগ করে দিবেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা খুবই মেধাবী। তিনি মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্য হলে জেলার যে সমস্যাগুলো রয়েছে সে সমস্যার সমাধান করতে পারবে।
মানিকগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. মেজবাহ উল হক মেজবাহ বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই মানিকগঞ্জে মন্ত্রী থাকতো। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রিতা আপা দলের জন্য যে অবদান রেখেছেন যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন সেজন্য মানিকগঞ্জের উন্নয়নের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় উনাকে দেবেন বলে আমরা দলের চেয়ারপার্সনের কাছে প্রত্যাশা করি। জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন বলেন, তিনি সাধারণ মানুষের কথা শোনেন। বড় দায়িত্ব পেলে গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে।
জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাবিহা হাবিব বলেন, তিনি একজন নারী হয়ে যেভাবে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসচ্ছেন। এটা দলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা না থাকলে সম্ভব নয়। তিনি মন্ত্রী হলে নারী সমাজ সহ দেশের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এ্যাড: জিন্নাহ খান বলেন, তৃণমূল থেকে গড়ে উঠা অধিক জনপ্রিয় নেত্রী আফরোজা খানম রিতা। মানিকগঞ্জের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের যেভাবে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে তা অতুলনীয়। এ ধরনের যোগ্য ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হলে মানিকগঞ্জসহ দেশের উন্নয়ন হবে।
মানিকগঞ্জবাসীর আশা বিপুল জনসমর্থনে নির্বাচিত এই জনপ্রিয় নেত্রী গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।