মামলার দ্বন্দ্বে সেচপাম্প বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। ফলে প্রচণ্ড রোগ আর পানি না পাওয়ায় প্রায় অর্ধশত বিঘা জমির বোরো ধানের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালী গ্রামের অর্ধশত কৃষক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষকেরা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত ধানক্ষেতে পানির ব্যবস্থার দাবি করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ দুধখালী গ্রামের হাওরের ক্ষেতে পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বড় বড় ফাটল আর ফ্যাকাশে ধানক্ষেতে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন দক্ষিণ দুধখালী গ্রামের নিজাম মুন্সির মা হালিমা খাতুন ও স্ত্রী সোনিয়া আক্তার। অন্যের এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছেন।
এই জমির ধান দিয়েই বছরজুড়ে পুরো পরিবারের আহারের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু মারামারির একটি মামলাকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে জমিতে সেচপাম্প বন্ধ করে দেয় একটি পক্ষ। এর পর থেকে আর জমিতে পানি দেওয়া হয়নি। ফলে পানির অভাবে ক্ষেতেই ধান পুড়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষোভের অন্ত নেই নিজাম মুন্সির পরিবারের। দ্রুত সমাধান হয়ে সোনার ফসলে পানি দেওয়ার দাবি তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গেল ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে দক্ষিণ দুধখালী মুন্সিবাড়ী জামে মসজিদের সংস্কারকাজ নিয়ে স্থানীয় আলমগীর মুন্সির সঙ্গে একই এলাকার সিদ্দিক মুন্সী, কামাল মুন্সীসহ কয়েকজনের মারামারির ঘটনা ঘটে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর সদর থানায় আটজনের নাম উল্লেখসহ আরো আট থেকে নয়জনকে অজ্ঞাত আসানি করে একটি মামলা করে। মামলার পর থেকে আলমগীর মুন্সির লোকজন জোরপূর্বক দক্ষিণ দুধখালী হাওরের প্রায় অর্ধশত বিঘা জমির সেচপাম্পটি ভেঙে ফেলে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে হাওরের এসব জমিতে পানি দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায় প্রতিটি জমিতেই প্রচণ্ড খড়া আর অনাবৃষ্টিতে ধনগাছ হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে। এসব জমিতে প্রতি বছর অন্তত এক থেকে দেড় হাজার মণ বোরো ধান উৎপাদন হয়। এ বছর যার পুরোটাই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে গেছে।
স্থানীয় নিজাম মুন্সির স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী পরিশ্রম করে পরের এক বিঘা জমি বর্গা চাষ করছি। ধানও ভালোই হয়েছিল। কিন্তু গত ১২ থেকে ১৩ দিন ধানে পানি দিতে না পারায় প্রায় সব ধানই মরে যাইতেছে। এভাবে আর কয়েক দিন থাকলে ধানের আশা করা যাবে না। মামলা-হামলা হতে পারে, কিন্তু তাই বলে ধানের পানি দেওয়া কেন বন্ধ করল? আমাদের পেটে লাথি দেওয়া হইছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।’
একই গ্রামের কৃষক কামাল মুন্সি বলেন, ‘মামলার পরে সেচ দেওয়ার পাম্পটি ভেঙে ফেলা হইছে। আর আমাদের চাষিদের মামলা দিয়ে গ্রামছাড়া করেছে, যে কারণে জমিতে আসতে পারি না। সেচপাম্পও মেরামত করতে দেয় না। আমাদের মুখে ভাত দেওয়ার মতো আর ব্যবস্থা থাকল না। এভাবে ফলন্ত ধানগুলো মেরে ফেলতেছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি, মামলা হলে আদালতে বিচার করুক, তাই বলে ধানের পানি দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ হবে কেন?’
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মামলা হলেই যে সেচপাম্প বন্ধ করে দেবে, বিষয়টি ঠিক না। সেচপাম্প বন্ধের ঘটনাটি আমার জানা নেই। যে করেই হোক, ধানের ক্ষতি যেন না হয়, সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফসল নষ্ট করার অধিকার কারোরই নেই। যে বা যারাই করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে মামলার বাদী আলমগীর হোসেন এ বিষয় গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হয়নি। বিষয়টি পুলিশ ও আদালত বুঝবে বলে তিনি দাবি করেছেন।