মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ২২ দিনের প্রচারণায় চমক দেখিয়েছেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাজী শরিয়তুল্লাহ-এর সপ্তম পুরুষ বংশধর সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা।
১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রিকশা প্রতীকের এই প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ঐতিহ্যবাহী বংশের উত্তরসূরি: ১৮১৮-১৮২০ সালের দিকে হাজী শরিয়তুল্লাহর হাত ধরে ফরায়েজী আন্দোলনের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। তাঁর মৃত্যুর পর নেতৃত্ব দেন তাঁর পুত্র দুদু মিয়া। সেই ঐতিহ্যবাহী বংশের উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেন ২৮ বছর বয়সী হানজালা।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ফল নির্ধারণ পোস্টাল ব্যালটে : ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। ১০২টি কেন্দ্রের অধিকাংশ সাধারণ ভোটে এগিয়ে ছিলেন বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পান ৬৪ হাজার ২৯১ ভোট। অন্যদিকে হানজালা রিকশা প্রতীকে পান ৬৩ হাজার ৫১১ ভোট।
তবে পোস্টাল ব্যালট গণনার পর ফলাফলে পরিবর্তন আসে। পোস্টাল ব্যালটে হানজালা পান ১,৩৯৮ ভোট এবং নাদিরা আক্তার পান ২৩৩ ভোট। সব মিলিয়ে হানজালার মোট প্রাপ্ত ভোট দাঁড়ায় ৬৪ হাজার ৯০৯ এবং নাদিরার ৬৪ হাজার ৫২৪। ফলে মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন হানজালা।
উল্লেখ্য, এ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বিজয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন,“আমি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবো না। হাজী শরিয়তুল্লাহর বংশের লোকজন রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে না। আমি শিবচরকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ভোটের এই বিজয় সত্যের বিজয়। যতদিন দায়িত্বে থাকবো, ইনসাফ ও ন্যায্যতার পক্ষে কাজ করে যাবো।”
তার এ বিজয়ে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।