হোম > সারা দেশ > ঢাকা

জয়-পরাজয় নির্ধারক হতে পারে আ.লীগের ভোট

শরীয়তপুরের চিত্র

মো. আল-আমিন, শরীয়তপুর

প্রতীকী ছবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। তফসিল ঘোষণার পর ফেব্রুয়ারির ভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত শরীয়তপুরে এবারের নির্বাচন ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি। টানা কয়েক মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ জেলায় দলটি কার্যত নির্বাচনি মাঠে নেই। সে শূন্যতার মধ্য দিয়েই নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলতে মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শরীয়তপুরে এবারের নির্বাচন শুধু আসন জয়ের প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি ক্ষমতা, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে, তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে শরীয়তপুরে। দীর্ঘদিন প্রশাসননির্ভর ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে এবার আলোচনায় এসেছে নৈতিকতা, সুশাসন, জবাবদিহি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলো।

যদিও আওয়ামী লীগ নির্বাচনি মাঠে নিষ্ক্রিয়, তবে তাদের রেখে যাওয়া ভোটব্যাংক ও সামাজিক প্রভাব পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়নি। বরং সেসব ভোটারের আস্থা অর্জনই এখন বিএনপি ও জামায়াতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

শরীয়তপুর-১ : আধিপত্য থেকে অনিশ্চয়তা

শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলা নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-১ আসন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রতীক ছিল। প্রায় তিন লাখ ৮০ হাজার ভোটারের এ আসনে অতীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত থাকলেও এবার সে চিত্র পাল্টে গেছে।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে এখানে আট প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত সাঈদ আহমেদ আসলাম এবং জামায়াত সমর্থিত জোট প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ।

তুলনামূলকভাবে নতুন মুখ হলেও সাঈদ আহমেদ আসলাম তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। অন্যদিকে জালালুদ্দীন আহমদ ধর্মীয় ও নৈতিক রাজনীতির বার্তা নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। স্থানীয় আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ ভোটারদের একটি অংশ নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে আনায় ইসলামি দলগুলোর প্রভাব বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ আসনে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন—এনসিপির আব্দুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নুর মোহাম্মদ মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের ফিরোজ আহমেদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।

শরীয়তপুর-২ : উন্নয়ন বনাম নৈতিকতা

সোয়া চার লাখ ভোটারের শরীয়তপুর-২ আসনকে এবার জেলার সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ আসন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান (কিরণ) উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি ও অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছেন। সখিপুরকে উপজেলা ঘোষণা, মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন তার প্রধান অঙ্গীকার।

অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেন বকাউল সুশাসন, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

তবে এ আসনে সহিংস ঘটনার অভিযোগ ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং নারী কর্মীদের প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রাজনৈতিক উত্তাপ আরো বাড়িয়েছে।

এ আসনে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইমরান হোসেন, জাতীয় পার্টির জসিম উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের আখতারুজ্জামান সম্রাট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান, জনতার দলের পারভেজ মোশারফ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর হোসেন ও মোহাম্মদ নাসির।

শরীয়তপুর-৩ : গণঅভ্যুত্থানের ছাপ

গোসাইরহাট, ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-৩ আসন বরাবরই সংবেদনশীল। প্রায় তিন লাখ ৪৩ হাজার ভোটারের এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে। রাজনৈতিক দমনপীড়ন ও কারাবরণের বিষয়কে সামনে রেখে তিনি নিজেকে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকে দলে টানার উদ্যোগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ইসলামি মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে প্রচার চালাচ্ছেন।

এ আসনে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হানিফ মিয়া ও জাতীয় পার্টির আব্দুল হান্নান।

ভোটারদের ভাবনা

শরীয়তপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তোয়াব হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকলেও তাদের ভোটাররা রয়ে গেছেন। তারা কোনদিকে ঝুঁকবেন, সেটিই এবারের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। শরীয়তপুরে এবারের নির্বাচন রাজনৈতিক ধারার মোড় ঘোরাতে পারে। তার মতে, এটি শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়; বরং রাজনীতির নৈতিক ভিত্তি পুনর্গঠনের একটি সুযোগ।

ভোটারদের বক্তব্যেও স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নতুন ভোটার আসলাম বলেন, এবার এমন প্রার্থীকে ভোট দেব, যিনি জেলার উন্নয়নে কাজ করবেন।

জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, আমরা এমন এমপি চাই, যিনি আল্লাহকে ভয় করবেন এবং মানুষের হক নষ্ট করবেন না।

নড়িয়ার কলেজ শিক্ষার্থী লিজা রহমান বলেন, আমি এবার দল দেখে ভোট দেব না। প্রার্থীর চরিত্র আর আচরণ দেখেই সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের এলাকায় শান্তি চাই।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্রব্যমূল্যের চাপ, কর্মসংস্থানের অভাব ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ভোটারদের ভাবনায় বড় জায়গা করে নিয়েছে।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া শরীয়তপুরের রাজনীতি এখন স্পষ্টতই দ্বিমুখী। আওয়ামী লীগ নিষ্ক্রিয় হলেও তাদের রেখে যাওয়া বাস্তবতা এখনো প্রভাবশালী। সে বাস্তবতার ভেতর দিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মুখোমুখি লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা শুধু শরীয়তপুর নয়; জাতীয় রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।

কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বউ-শাশুড়ির নিহত

মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দুই স্কুল ছাত্র নিহত

মুকসুদপুরে বজ্রপাতে কৃষক নিহত

মায়ের জানাজায় এসে ছেলের মৃত্যু, এলাকায় শোক

মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে কটিয়াদীর যুবকের মৃত্যু

কটিয়াদীতে জামায়াতের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবি, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

কাপাসিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন সন্তানের জনক আটক

চরাঞ্চলের সংঘাত রাজনৈতিক নয়, বংশগত ও সামাজিক