মানিকগঞ্জে বিএনপি প্রার্থী রিতা
গ্রামের কাঁচা-পাকা রাস্তা, দুপাশে শীতের রোদে ঝিমিয়ে থাকা ঘরবাড়ি। কোথাও শীতকালীন সবজির ক্ষেত, কোথাও খোলা উঠান। এমনই এক শান্ত দুপুরে হঠাৎ বদলে গেল দরগ্রামের চিরচেনা দৃশ্য। ঢোলের তালে তালে স্লোগান, হাতে হাতে লিফলেট, নির্বাচনি আমেজে মেতে উঠল সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম।
আজ বুধবার দুপুরে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতার নির্বাচনী প্রচারে দেখা যায় এমন দৃশ্য। এ সময় ভিড় জমায় নানা বয়সী মানুষ। তবে প্রচারের ভিড়ে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে কোমলমতি শিশুরা। কেউ স্কুল ড্রেসে, কেউ বা রঙিন জামায় হাত উঁচু করে তারা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলে পুরো এলাকা।
রাজনীতির কঠিন হিসাব-নিকাশ না বুঝলেও শিশুরা বুঝেছে উৎসবের আনন্দ। বড়দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা হাঁটছে, হাসছে, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। কারও হাতে ছোট্ট কাগজের পতাকা, কারও মাথায় বাঁধা প্রতীকের রঙিন ফিতা। শিশুসুলভ উচ্ছ্বাসে যেন পুরো নির্বাচনি প্রচার পেয়েছে আলাদা মাত্রা।
গ্রামের প্রবীণরা দাঁড়িয়ে দেখছেন এই দৃশ্য। কেউ মুচকি হাসছেন, কেউ আবার বলছেন, এই শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের চোখে-মুখে আজ যে আগ্রহ, যে কৌতূহল তা আগামী দিনের সচেতন নাগরিক হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনী মিছিলে অংশ নেওয়া আফরোজা খানম রিতাও শিশুদের প্রতি আলাদা করে নজর দেন। শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন, কারও সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। প্রচারণার একপর্যায়ে দেখা যায় শিশুরা তাকে ঘিরে ধরেছে, কেউ হাত ধরে হাঁটছে, কেউ পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে।
এমনই এক দৃশ্যের প্রতিক্রিয়ায় রিতা বলেন, ‘এই শিশু কিশোররাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আমি এমন একটি মানিকগঞ্জ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে বড় হবে, প্রতিটি কিশোর পাবে মানসম্মত শিক্ষা, খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ। কোনো শিশু ঝরে পড়বে না, কোনো কিশোর ভুল পথে হারিয়ে যাবে না, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’
রাজনীতি যেখানে অনেক সময় বিভাজনের কথা বলে, সেখানে দরগ্রামের এই দুপুর যেন তুলে ধরল ভিন্ন এক ছবি, যেখানে নির্বাচন মানে শুধু ভোট নয়, বরং মানুষের অংশগ্রহণ, আনন্দ আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কৌতূহল।
দরগ্রামের রাজপথে সেই দুপুরের দৃশ্য বলে দিচ্ছিল একটাই কথা, নির্বাচনের উত্তাপ শুধু বড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, কোমলমতি শিশুরাও যেন আজ ছুঁয়ে দেখছে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের এই অভিযাত্রা।