পশুরহাট নিয়ে আধিপত্য
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বালুচর বাজারের পশুর হাটকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২জন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বালুচর বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে কয়েকজন ট্যাটাবিদ্ধ হন। এছাড়া আরো কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে বাউল গ্রুপের ছামাদ বাউলের ছেলে শহীদ বাউল (৩৫), আকবর নগরের আরিফ হোসেন (৩৫), রহমানের ছেলে ওছমান গনি (২৫) এবং ইসলামের ছেলে ফারুক মুন্সী (৩০) রয়েছেন। অন্যদিকে সরকার গ্রুপের সুরুজ জামাল সরকারের ছেলে শাকিল সরকার (২৭), সিপন সরকার (৩২), সামিম সরকার (৩০), ফুলচাঁন সরকারের ছেলে হৃদয় সরকার (২৮), আমির হোসেন সরকারের ছেলে শরিফ সরকার (২৮), আসফাক সরকার (৩৮), আসলাম সরকার (৪০) এবং সিরাজুল সরকারের ছেলে রাজু সরকার (৩০) আহত হন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৩ ও ২৬ মে বালুচর বাজারে গরু-ছাগলের হাট বসার কথা রয়েছে। হাটটির ইজারা নিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান। হাট পরিচালনাকে কেন্দ্র করে সকালে স্থানীয়দের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় হাটের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মোক্তার হোসেন ও শহীদ বাউলকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সভা চলাকালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মোল্লাকান্দি গ্রামের সরকার বাড়ি ও মুন্সিবাড়ী গ্রুপের লোকজন শহীদ বাউলের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় তাকে ট্যাটা দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তার সমর্থকরা এগিয়ে এলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওলান হোসেন বলেন, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হাটের ইজারাদার মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান দাবি করেন, ‘বাজারের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়। এর উদ্দেশ্য খামারি ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে হাটে বেচাকেনা ব্যাহত হয়। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হাট পরিচালনা করতে চাই।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, গরুর হাটের ইজারা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এমই