ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, যারা ইসলামের আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায় না! সে আলেম হোক, ইসলামিক দল হোক তাকে কিন্তু ইসলামীপন্থিরা ভোট দিতে চায় না। তাদের কিন্তু ইসলামীপন্থিরা সমর্থন দিতে পারে না।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশকে নতুনভাবে বিনির্মাণ করার দায়িত্ব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম আমি। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ শিবচর উপজেলার উদ্যোগে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে নির্বাচনি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইনসাফ ও সাম্যের মাধ্যমেই মানুষের প্রকৃত মুক্তি আসবে এবং শোষণের হাত থেকে সাধারণ জনগণ রেহাই পাবে।
যাদের ইতিহাস আমদের সামনে প্রকাশ হয়েছে, তাদের ইতিহাস কুকুরের চেয়েও খারাপ।বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আওয়ামী লীগ পালায়, আর আওয়ামী লীগ আসলে বিএনপি পালায়।কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ দেশ থেকে পালাবে না।
বুধবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার নন্দকুমার মডেল ইনস্টিটিউশনের মাঠে এক নির্বাচনি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আকরাম হোসাইনের নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় শিবচরের সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে আলেম সমাজের সুদৃঢ় ঐক্য ও সক্রিয় অংশগ্রহণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করীম করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। এ সময় তিনি বিএনপির নীতিহীন রাজনীতি এবং জামায়াতের ‘শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করব না’- এমন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষে কথা বলার একমাত্র বিকল্প হলো শরিয়াহভিত্তিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। এ লক্ষ্যে তিনি শিবচরবাসীকে হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। মাস্তানি আর সন্ত্রাসের রাজনীতির দিন শেষ। রাজনীতি হবে মানুষের সেবার জন্য, ভয় দেখানোর জন্য নয়।
এ সময় তিনি আরো বলেন, আমরা একটি স্বপ্ন, ভিশন ও অঙ্গীকার নিয়ে রাজনীতিতে নেমেছি। বাংলার মানুষের মাঝে আজ যে জাগরণ তৈরি হয়েছে এবং তরুণদের বুকে যে সাহস পুঞ্জীভূত হয়েছে, তাতে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি হাজি শরীয়াতুল্লাহর এই পুণ্যভূমিতে এবার ইনসাফের শাসন কায়েম হবে। বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো জমিদারি রাজনীতি দেখতে চায় না।
সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। বংশ পরম্পরায় শাসন করার দিন শেষ হয়ে আসছে। সাধারণ মানুষ এখন মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতিকে গ্রহণ করছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হবে ইনশাআল্লাহ।
নির্বাচনী সমাবেশের সভাপতি মাদারীপুর-১(শিবচর) আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আকরাম হোসাইন বলেন, একশ্রেণীর নেতাকর্মীরা রয়েছেন, যখন নির্বাচন আসে তখন তারা প্রতিশ্রুতি দেন, আমরা সমাজকে মাদক মুক্ত করব, দুর্নীতি মুক্ত করব। কিন্তু তারা ক্ষমতায় যাওয়ার পর দেখতে পাওয়া যায় অপরাধ প্রবণতা আরো বেড়ে গেছে।
আমরা কথার ফুলঝুড়িতে বিশ্বাসী নই। আমি দীর্ঘদিন ধরে শিবচরের স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও আলেম-ওলামাদের পাশে থেকে কাজ করে আসছি। এ কারণেই সর্বস্তরের মানুষের কাছে আমার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে শিবচরকে সব রকম জুলুম, নির্যাতন ও সন্ত্রাসমুক্ত করব।
মাওলানা আকরাম হোসেন আরো বলেন, আমার প্রথম কাজ হলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি যুব সমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং একটি নৈতিক, শান্তিপূর্ণ ও দুর্নীতিমুক্ত শিবচর গড়ে তুলতে আমি নিরলসভাবে কাজ করব।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন মুফতি রেজাউল করিম আবরার সেক্রেটারি জাতীয় ওলামা মাসায়ে আইম্মা পরিষদ, আলী আহম্মদ চৌধুরী, পীর সাহেব চন্ডিবদী, মাদারীপুর।মাওলানা এনামুল কবির কহিনুর, সাবেক সভাপতি ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ।
হাফেজ জাফর আহম্মদ সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, শিবচর উপজেলা শাখা।মাওলানা শাহ-আলম তালুকদার, সভাপতি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, শিবচর উপজেলা শাখা। মাওলানা আব্দুস ছালাম সদর বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি শিবচর উপজেলা শাখা।
মাওলানা হেমায়েত হোসেন সেক্রেরেটারী, শিবচর উপজেলা শাখা মাওলানা মাহাফুজুর রহমান সভাপতি ইসলামী যুব আন্দোলন শিবচর উপজেলা শাখা।মো: এসমাম হোসেন সভাপতি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন শিবচর উপজেলা শাখা। এছাড়া অসংখ্য ওলামায়ে কেরাম ও রাজ নীতিবিদগন উপস্থিত ছিলেন।