দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি ছয় ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা।
বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
রাজবাড়ি জেলার এসপি মোহাম্মদ মঞ্জুর মোরশেদ জানিয়েছেন, ‘‘বাসটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। ৫০ ফুট পানির নীচে আছে বাসটি। বাসের এক পাশে রশি লাগানো হয়েছে। আরেক পাশে রশি লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপর বাসটিকে টেনে তোলা হবে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজে সমস্যা হচ্ছে।
মঞ্জুর মোরশেদ আরও জানান, বাসটি ডুবে যাওয়ার সময় ৬-৭ জন সাঁতরে পার হয়ে গিয়েছিলো। ধারণা করা হচ্ছে তারা বেঁচে গেছেন। তবে সে সময় আরও চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে দুইজন হাসপাতালেই মারা গেছেন। আরেকজন চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের তিনজনই নারী।
উদ্ধারকৃত আরেকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, ডুবে যাওয়া বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিল। বাসটি কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। বাসটি তিন নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু সোয়া পাঁচটার দিকে ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে জোরে পন্টুনে আঘাত করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
রাত ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, ফরিদপুর ও আরিচা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দু'টো ডুবুরি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং ঢাকার সিদ্দিকবাজার থেকে আরও দু'টো ডুবুরি ইউনিট দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছে।