ছাত্র নিপীড়ক এসআইকে ছেড়ে দেওয়ার জের
পুলিশের এসআই সুকান্ত দাসকে ছেড়ে দেওয়ায় ঘটনায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। একই সঙ্গে তারা সড়ক অবরোধ করেন। বুধবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত বিক্ষোভ করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নগর সদস্য সচিব জহুরুল তানভীর বলেন, বর্তমান পুলিশ কমিশনার আসার পর থেকে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এসআই সুকান্তের মতো লোককে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের দোসরদের গ্রেপ্তার করছেন না। আমরা এমন লোককে খুলনায় দেখতে চাই না। আমরা কেএমপি কমিশনার হিসেবে একজন দেশপ্রেমিক যোগ্য লোককে চাই। আন্দোলনে সবার অংশগ্রহণ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এডিসি (মিডিয়া) খন্দকার হোসেন আহম্মেদ বলেন, সুকান্ত তার কর্মস্থল চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চলে গেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট না থাকায় আটক করা যায়নি। পুলিশ আইনে আছে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণ হলে তারপর আটক করতে হয়। একটি মামলা করলেই তাকে আটক করা যাবে না, যে কারণে সুকান্তকে আটক করা যায়নি।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবীর হোসেন বলেন, মঙ্গলবার এসআই সুকান্ত আদালতে সাক্ষী দিয়ে বাইকযোগে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। এ সময় শিরোমণি এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তিনি চলে যান। তার বিরুদ্ধে খানজাহান আলী থানায় কোনো অভিযোগ নেই।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে মহানগরীর ইস্টার্ন গেট এলাকা থেকে সুকান্তকে স্থানীয়রা মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তিনি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত। আদালতে একটি মামলার সাক্ষী দিতে খুলনায় এসেছিলেন তিনি। তার নামে খুলনা সদর থানায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় গত ১২ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ডিবিতে তদন্তাধীন।