সুপারি বাগানে ঢোকার অপরাধে
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় সুপারিবাগানে ঢোকায় তিনটি ছাগল পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে মৃত ছাগল নিয়ে থানায় হাজির হন ভুক্তভোগী।
শুক্রবার দিবাগত রাতে দুর্গাপুর থানায় এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন ছাগলের মালিক ছাইদুল ইসলাম। এর আগে বিকেলে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মেনকিফান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে তার প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেনকিফান্দা গ্রামের বাসিন্দা ছাইদুল ইসলামের আটটি ছোট-বড় ছাগল বাড়ির উত্তর পাশে একটি সুপারিবাগান এলাকায় ঘাস খেতে যায়। এ সময় বাগানে কাজ করছিলেন একই গ্রামের কয়েক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, তারা ছাগলগুলো বাগানে প্রবেশ করায় ক্ষুব্ধ হন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেলে কাজ শেষে অভিযুক্তরা ছাইদুল ইসলামের বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে বলেন, পরদিন আবার ছাগল বাগানে গেলে সেগুলো আর বাঁচবে না। হুমকির কিছুক্ষণ পর ছাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আজুফা খাতুন ছাগলগুলো খুঁজতে গিয়ে সুপারিবাগানের ভেতরে একটি তিন মাসের গর্ভবতী ছাগলসহ তিনটি ছাগল রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
ছাগলের মালিক ছাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ছাগলগুলোই ছিল আমার পরিবারের অন্যতম অবলম্বন। ওগুলোর একমাত্র অপরাধ ছিল সুপারিবাগানে ঢোকা। গ্রামবাসীর কাছেও বিচার না পেয়ে মৃত ছাগল নিয়ে থানায় এসে অভিযোগ করেছি।’
ভুক্তভোগীর স্বজন রমজান আলী বলেন, ‘আমার বোনজামাই অটোরিকশা চালান আর বোন ছাগল-মুরগি পালন করে সংসার চালান। তারা খুব কষ্টে জীবনযাপন করছেন। আমরা সুষ্ঠু বিচারের আশায় থানায় এসেছি।’
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এমএইচ