নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় গরু লুটে বাধা দেওয়ায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (রাত) দিবাগত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রোকেয়া আক্তার (৩৮) ওই গ্রামের বাসিন্দা ওলিউল্লার স্ত্রী। জানা গেছে, আগামী ১৫ এপ্রিল তার স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ওলিউল্লার ভাতিজা আবুল বাশার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এতে একই গ্রামের আংগুর মিয়া, রফিকুল ইসলাম, তরিকুল মিয়া, আনসার মিয়া ও মজিবর মিয়াসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ব বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আংগুর মিয়াসহ ১৫-২০ জনের একটি দল ওলিউল্লার বাড়িতে হামলা চালায় এবং গোয়ালঘর থেকে গরু লুটের চেষ্টা করে। এ সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় অন্তঃসত্ত্বা রোকেয়া আক্তার বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার পেটে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর রোকেয়ার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী ওলিউল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। গরু লুট করতে এসে বাধা দেওয়ায় তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার ফলে গর্ভের সন্তান মারা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আংগুর মিয়া। তিনি দাবি করেন, পূর্বের একটি ঘটনার জেরে তাকে ফাঁসাতে এই অভিযোগ সাজানো হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন মিয়া বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তি রয়েছে। দুই পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, খবর পেয়ে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।