অচল ছিল সিসিটিভি
জামালপুর পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় দুই বিচারকের ভাড়া বাসায় গ্রিল কেটে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা প্রায় আট ভরি স্বর্ণালংকার, একটি হীরার আংটি, নগদ ১ লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বিচারক দম্পতি।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শহর এলাকায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সিভিল জজ আহমাদুল কবির সাকিল মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতে এবং তার স্ত্রী সিভিল জজ নুসরাত জেরিন জেনি দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় সাত মাস ধরে ভাড়া থাকছেন বিচারক দম্পতি।
মঙ্গলবার বিকেলে স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন আহমাদুল কবির সাকিল। বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চোরেরা একটি হীরার আংটি, প্রায় আট ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, যাওয়ার আগে পুরো ঘর তছনছ করে রেখে যায়।
সিভিল জজ আহমাদুল কবির সাকিল জানান, রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরে বাইরে থেকে দরজার তালা খুলতে না পেরে প্রথমে তিনি তালা নষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন। পরে একজন মিস্ত্রি এনে চেষ্টা করিয়েও তালা খোলা সম্ভব হয়নি। এতে তার সন্দেহ হয়, ঘরের ভেতর থেকে দরজা আটকে রাখা হয়েছে। রাত ৯টার পর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তিনি দেখতে পান জানালার গ্রিল কাটা, ঘরের আসবাব এলোমেলো এবং মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে।
বাড়ির মালিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তার ভবনে মোট পাঁচটি ইউনিট রয়েছে। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সেগুলো বর্তমানে অকার্যকর। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে ক্যামেরা বিকল করে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে বিচারকদের বাসাতেই এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শহর এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা, সিসিটিভির কার্যকারিতা এবং অপরাধীদের চলাচল নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জামালপুর সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় গ্রিল কেটে চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ