নেত্রকোনায় অবাধে চলছে অবৈধ ইটভাটা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে কৃষিজমি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ। এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ। ফলে এসব ইটভাটার নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না।
জানা গেছে, নেত্রকোনায় ৩২টি ইটভাটার মধ্যে চারটির ছাড়পত্র আছে, বাকিগুলো ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে জেলার ৪০টি ইটভাটার মধ্যে এ বছর চালু আছে ৩২টি। মৌসুমের শুরুতে স্থানীয় প্রশাসন ছয়টিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আর্থিক জরিমানা করে। এগুলোতে এখন ইট পোড়ানোর কার্যক্রম চালু আছে। কিন্তু বন্ধ করার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ইটভাটার সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার ৯টি উপজেলায় ৪০টি ইটভাটা রয়েছে। এ বছর ৩২টি ভাটা ইট উৎপাদনে কাজ করছে। এর মধ্যে চারটি ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে। বাকি ২৮টি ভাটা ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধ থেকেই ইট তৈরির কাজ করছে। প্রতিটি ভাটায় ৩০০-৪০০ শ্রমিক কাজ করে থাকে। ফলে ১০-১২ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয় এ সমস্ত ইটভাটায়। প্রতিটি ভাটায় ৬৫ লাখ থেকে ১ কোটি পিসের বেশি ইট উৎপাদন হয়। বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুর রহমান বলেন, প্রকৃতিকে বাঁচানোর জন্য বিধিমোতাবেক ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা উচিত। কিন্তু অনেকেই তা মানছে না। এতে করে প্রাকৃতিক পরিবেশ দূর্ষিত হচ্ছে।
নেত্রকোনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মতিন বলেন, জেলায় ৩২টি ইটভাটা চালু আছে। এর মধ্যে চারটির পরিবেশের ছাড়পত্র রয়েছে। এ বছর কেন্দুয়া চারটি, মদনে দুটি ও আটপাড়ায় দুটি ভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। মামলা জটিলতার কারণে অবৈধ ভাটাগুলো বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে অবৈধ ইটভাটায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে। সরকারি জমি এবং নদী ও বিলের অংশ থেকে ইটভাটায় মাটি নেওয়ার বিষয়ে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।