বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলে
যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার জোতপাড়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলের কারণে পূর্ব তীররক্ষা বাঁধসংলগ্ন এলাকায় এ ভাঙন দেখা দেয়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শতকোটি টাকার তীররক্ষা বাঁধ। চৌহালী উপজেলা সদর রক্ষা বাঁধটি ২০১৬ সালে ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে টাংগাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নদীর তীর ও উপজেলা সদর রক্ষার্থে যমুনায় বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী দফায় দফায় বিক্ষোভ করছে। পূর্ব তীর দিয়ে অব্যাহতভাবে বাল্কহেড চলাচলের কারণে প্রায় পাঁচ শতাধিক বসতি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলা পরিষদসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ ও হাট-বাজার।
জেলার মানচিত্রে চৌহালীর অবস্থান থাকলেও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও বারবার নদীভাঙনের কারণে উপজেলা সদর কার্যত জেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন। স্থানীয়দের দাবি, যমুনা নদী দিয়ে রাতদিন বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলই বর্তমানে নদীভাঙনের প্রধান কারণ।
এদিকে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রেহাইপুকুরিয়া পশ্চিমপাড়া থেকে ভূতের মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কি.মি. এলাকাজুড়ে শুধু জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। ডাম্পিং তীরের খুব কাছ দিয়ে এসব বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল করায় বিভিন্ন জায়গায় জিও ব্যাগ ধসে যাচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে বাঘুটিয়া ও খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলে রক্ষা পাবে অবশিষ্ট অংশ।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা আবুল বাশার জানান, কয়েক দিন ধরেই যমুনায় তীব্র ভাঙন চলছে। তার দাবি, বালুমহলের শত শত বাল্কহেডের অবাধ চলাচলই বর্তমানে নদীভাঙনের মূল কারণ।
চৌহালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মতিউর রহমান বলেন, বাল্কহেড আটকাতে স্থানীয়রা যমুনার তীরে জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। তবে কয়েকটি বাল্কহেড নাব্যতা সংকটের কারণে আটকে আছে। তারা চলে গেলে আর নতুন করে কোনো বাল্কহেড চলবে না।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাসিবুর রহমান জানান, তিনি যমুনা নদীর তীরে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করেছেন।