চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজের ৩৬ ঘণ্টা পর শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা। গ্রেপ্তারকৃতদের বসতঘরের পেছনের ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শিশু জায়হানের বাবা শাহজাহান জানান, তার ছেলেকে মঙ্গলবার দুপুরে অপহরণ করা হয়। এরপর শাহজাহানের ঘরের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে লেখা ছিল, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে। ছেলেকে পেতে চাইলে যা বলছি তা শুন। আধা ঘণ্টার মধ্যে ৩ লাখ টাকা এবং তোর পরিবারের যেকোনো একজনের আনলক করা মোবাইল একটি ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশের ভাঙা দোকানের ভেতরে রেখে দিবি।’
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় জায়হান। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রথমে পরিবারের ধারণা ছিল, শিশুটি বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে গেছে। এলাকাবাসীর সহায়তায় পুকুরে তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। পরে পরিবার পটিয়া থানায় একটি জিডি করে। এ সময় একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চিঠিটি আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে অভিযান শুরু করে।
স্বজনদের অভিযোগ, টাকার লোভে প্রতিবেশীরা পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করেছিল। পরে ধরা পড়ার ভয়ে তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ ঘটনার পর থেকে ওই প্রতিবেশীরাও পরিবারের সঙ্গে নাটকীয়ভাবে জায়হানকে খোঁজাখুঁজির অভিনয় করেছিল।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশু জায়হানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘ভোরে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে শিশু জায়হান হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
এমএইচ