সাত দিনে সাত খুন
পাবনায় সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। শহরজুড়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ ও নৃশংসতার ঘটনা ঘটছে। গত সাত দিনে পাবনা শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ঘটনায় একটি চরমপন্থি দলের সদস্য, কলেজছাত্র ও স্কুলছাত্রীসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত সোমবার বিকাল ও সন্ধ্যার মধ্যে পাবনা শহরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার জাফরাবাদ এলাকার চরমপন্থি দল নকশালের সদস্য আলী হোসেন (৫৩) তার সন্তানকে শহরের মাসুম বাজার এলাকার জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসায় নামিয়ে দিতে আসেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার যুবক তাকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে, সোমবার বিকালে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার পাবনা পেট্রোলিয়াম পাম্পের পেছনে বিরোধের জেরে মনিরুল ইসলাম (২০) নামের এক কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মনিরুলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে গত ৩ জুন প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আর্থিক লেনদেনের জেরে ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী রিয়া খাতুনকে (১৫) ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি অবস্থায় পদ্মা নদীর তীরে ফেলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার জেরে গত ৪ জুন রিয়ার দাফন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত নাঈমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় বাড়িতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটলে বেশ কয়েকজন গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোম ও মঙ্গলবার সুমন শেখ (৩৫), সাইফুল ইসলাম সাব্বির (২০) এবং সাপু (২১) নামের তিন যুবকের মৃত্যু হয়।
এর আগে, গত ২ জুন মধ্যরাতে পাবনা মানসিক হাসপাতালের আবাসিক ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা নাজমুল (২৮) ও ইনজামুল হক (২৬) নামে দুই রোগীর প্রচণ্ড মারামারি হয়। এ সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই ইনজামুল মারা যান।
এসব ঘটনায় পাবনা শহরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এবং ভীতির সঞ্চার হয়েছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছেন। এছাড়া পাবনা শহরে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে অতিষ্ঠ শহরবাসী। বিশেষ করে শহরের মার্কেট ও গার্লস স্কুলগুলোর সামনে এদের তৎপরতা বেশি।
শহরের শালগাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার দুটি মেয়েকে নিয়ে ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতায় আছি। নিজের কাজের ব্যাঘাত ঘটিয়েও সন্তানদের স্কুল থেকে কোচিংয়ে যাওয়া-আসা করছি। বর্তমান পরিস্থিতিকে আমি আমার সন্তানের জন্য নিরাপদ মনে করছি না। গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ জানান, পুলিশ চরমপন্থি নেতা আলী হোসেন হত্যায় সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য আমরা যেখানেই পাচ্ছি, সেখানে অভিযান করছি। কিছুদিন আগে একটি চাঁদাবাজির মামলায় আমরা আটজনকে গ্রেপ্তার করেছি। ওখানে প্রায় সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল। বর্তমানে পাবনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান করছি, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে ফিক্সড একটা সময়ে না করে এলোমেলোভাবে আমরা অভিযান করছি। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আমরা তল্লাশি করছি।