বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাকা সড়কের পাশ থেকে পুকুর খননের নামে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। গভীর গর্ত করে মাটি কাটার ফলে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে পাকা সড়কটি। তবে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে জোরাল কোনো ভূমিকা রাখছে না উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার সকাল ১০টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ভান্ডারবাড়ী-গোসাইবাড়ী পাকা সড়কের রঘুনাথপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম রাস্তার পাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির পুকুর খনন ও পুকুরের পাড় বাঁধার নামে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে।
ট্রলি ও ভেকু দিয়ে চলছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। ট্রাক্টর দিয়ে সেই মাটি বিভিন্ন এলাকার ইটভাটা ও ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। রাস্তার পাশ থেকে গভীর গর্ত করে মাটি কাটার কারণে পাকা সড়কটি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
তবে সরকারি বিধিমোতাবেক আঞ্চলিক বা গ্রামীণ সড়কের উভয় পাশের ১০ ফুটের মধ্যে কোনো পুকুরের পাড় রাখা যাবে না। উভয় পাশে এ পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রেখে তবেই পাড় করতে হবে। সড়ককে পুকুরপাড় বানানো কোনোভাবেই আইনসিদ্ধ নয়।
এদিকে অতিরিক্ত মাটিবোঝাই ট্রাক চলাচল করায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কম ওজন ধারণকারী রাস্তাগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলাকার বিভিন্ন সড়কে সারা দিনই মাটি বোঝাই ট্রলি চলাচল করছে। অবৈধভাবে মাটি কেটে রাস্তা নষ্ট করা হচ্ছে, বৃষ্টি হলে কাদা জমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পরিবেশও মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, শিশু ও বৃদ্ধরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার নিজের জায়গায় পুকুর খনন করে পাড় বাঁধাই করা হচ্ছে। তবে সামান্য কয়েক গাড়ি মাটি গ্রামের মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজের জন্য বিক্রি করা হচ্ছে। এতে রাস্তাঘাটের কোনো প্রকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রীতিলতা বর্মন জানান, মাটি কেটে বিক্রয়ের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।