নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের বেনীপুর গ্রামে অবস্থিত বেনীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন শিক্ষকস্বল্পতা ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক বছর ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬১ জন, এর মধ্যে ছেলে ৩১ জন এবং মেয়ে ৩০ জন। শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—প্রাক-প্রাথমিক ৩ জন, প্রথম শ্রেণি ১১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণি ১৫ জন, তৃতীয় শ্রেণি ৭ জন, চতুর্থ শ্রেণি ১০ জন এবং পঞ্চম শ্রেণি ১৪ জন। শিক্ষার্থীর প্রায় ৪০% ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর, যা বিদ্যালয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরাফ জানায়, শিক্ষক কম থাকায় নিয়মিত সব বিষয়ে পাঠদান সম্ভব হয় না। সামনে আমাদের পরীক্ষা। কিন্তু স্যার যখন আমাদের ক্লাস নেন, তখন অন্য শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা হইচই করে, এতে আমাদের ক্লাসের বিঘ্ন ঘটে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় সব বিষয়ে ঠিকমতো পাঠদান করা সম্ভব হয় না।
বিদ্যালয়ের একমাত্র সহকারী শিক্ষক ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে প্রতিদিনই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। একাধিক শ্রেণি একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে পাঠদান ঠিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে, এতে শিক্ষার্থীরাও শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাদ হোসাইন বলেন, ‘এক বছর আগে প্রধান শিক্ষক বদলি হওয়ার পর পদটি এখনো শূন্য। এর মধ্যে আরেকজন সহকারী শিক্ষক চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় বর্তমানে আমি এবং একজন সহকারী শিক্ষক মিলে পুরো বিদ্যালয় পরিচালনা করছি।’
তিনি আরও জানান, অনেক সময় প্রশাসনিক কাজের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হলে পুরো বিদ্যালয়ের দায়িত্ব একজন শিক্ষকের ওপর পড়ে যায়। তখন একটি শ্রেণির ক্লাস নিতে গেলে বাকি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হয়। আবার আমি যখন স্কুলে থাকি, নিজেও পাঠদান করাই, তারপরেও একই সমস্যা তৈরি হয়। সেই জন্য দ্রুত উক্ত বিদ্যালয়ে দুজন সহকারী শিক্ষক এবং একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে পুরোদমে পাঠদান করা সম্ভব।
এছাড়া পুরো বিদ্যালয়টি দেখভাল করার জন্য একজন অফিস সহায়ক প্রয়োজন।
বিদ্যালয়টিতে কোনো অফিস সহায়ক বা পিয়ন না থাকায় শিক্ষককেই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। স্কুল ছুটির পরও প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কাজ শিক্ষকদেরই করতে হয়, যা তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়রা জানান, আশপাশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস বেশি হওয়ায় বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতিও বেশি। কিন্তু শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নিয়ামতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তরিকুল ইসলাম বলেন, বেনীপুর স্কুলের মোট পদের সংখ্যা চার। দুজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলছিল। বর্তমানে ডেপুটেশনে একজন শিক্ষক দেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় দ্রুত শিক্ষক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদ পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।