বগুড়া শহরে হাফডজন মামলার আসামি আরিফ শেখ (৩৬) দুর্বৃত্তের হামলায় খুন হয়েছেন। তিনি কলোনির বিহারি আরিফ নামেও পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গভীর রাতে কুপিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পথ্যে মহল্লার গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বিস্তার, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির টাকা ভাগবাটোয়ারা, দলবাজি বা পারিবারিক বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে শৃঙ্খলা বাহিনী ।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া মহানগরের লতিফপুর কলোনীর প্রীতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত আরিফ শেখ ওই মহল্লার আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত আরিফ শেখের একটি হাত ভাঙা ছিল। ঘটনার আগে কয়েকজন যুবক সমঝোতার কথা বলে কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে গেছে। তবে কেন এই নৃশংসতা! এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সঠিক কারণ জানা যায়নি।
নিহতের ছোট বোন রুমি আফরিন অভিযোগ করে বলেন, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা, হাত-পায়ের রগসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে কুপিয়েছে। স্থানীয় সেলিম, তার ভাগ্নে শুভ, জীবনসহ ৫/৭ জন হামলায় অংশ নেয়। ১০ লাখ টাকা লেনদেন কেন্দ্র করে আরিফ শেখের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিকেল থেকেই তাকে খুঁজছিলেন প্রতিপক্ষের লোকজন। হত্যার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে আত্মগোপন করেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার কারণ হিসেবে আর্থিক লেনদেনের বিরোধ দাবি করা হলেও ছায়া তদন্তে নেমেছে পুলিশ, ডিবি, র্যাব ও সিআইডি। আধিপত্য বিস্তার বা টাকা ভাগবাটোয়ারা কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উন্মোচনে তদন্ত চলছে। নিহত আরিফ শেখের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
৩ বছর আগে বগুড়া পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বিকেলে আঘাত করে হত্যা করেন তিনি। বিগত দিনগুলোতে স্থানীয় যুবলীগের ক্যাডার হিসেবে কাজ করতেন আরিফ।
এমএইচ