জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে পুড়ছে নাটোরের লালপুর। তপ্ত রোদ, গরম বাতাস এবং ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। কয়েকদিন ধরে চলমান তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সোমবার বিকেলে তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে গরমের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৩টায় লালপুর অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫০ শতাংশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হেলালউদ্দিন।
দেশের অন্যতম উষ্ণ জনপদ হিসেবে পরিচিত লালপুরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। প্রখর রোদে মাঠে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গরমে অবিরাম ঘাম ঝরছে, আর বিদ্যুৎচালিত পাখার বাতাসেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি।
সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত লালপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার, সড়ক ও জনসমাগমস্থলে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। দিনভর তাপদাহের পর রাতেও স্বস্তি না মেলায় জনমনে বাড়ছে অস্বস্তি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও গরমের প্রভাব অব্যাহত থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেকেই ঘুমের সমস্যাসহ নানা ধরনের শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগছেন।
এদিকে তীব্র গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুরুজ্জামান শামীম বলেন, “তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের প্রখর রোদে বাইরে না যাওয়াই ভালো। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ, ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।”
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং আকাশে মেঘের উপস্থিতি কম থাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে আপাতত বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন লালপুরবাসী।