বগুড়া-৬
তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন ছেড়ে দেওয়ায় সম্ভাব্য উপনির্বাচন ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সামাজিক ও পেশাজীবী মহলে চলছে নানা আলোচনা।
বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থেকে কাউকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান—এমন মত দিচ্ছেন এলাকার একাংশের সাধারণ মানুষ। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের নাম।
নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বগুড়ার রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক প্রভাব ও আবেগ এখনো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অনেকেই। তাঁদের মতে, পরিবারের কোনো সদস্য নির্বাচন করলে তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে পারে।
সদর এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বগুড়া সব সময়ই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত একটি জেলা। এখানকার মানুষ এমন একজন প্রতিনিধিকে চান, যিনি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব বহন করবেন এবং এলাকার উন্নয়নেও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
শিক্ষক জামিউল জামিল, সাংবাদিক নেতা গণেশ দাস ও বেসরকারি চাকরিজীবী মোমিনসহ কয়েকজন বলেন, স্থানীয় নেতা হলেও আপত্তি নেই; তবে জিয়া পরিবারের কেউ হলে ভালো হয়। তাঁদের মতে, এ আসনে জামায়াতও সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাই শিক্ষিত, গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রত্যাশা মানুষের মধ্যে রয়েছে।
তরুণদের একটি অংশ মনে করছেন, নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যিনি রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও আধুনিক চিন্তাধারার সমন্বয় ঘটাতে পারবেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তারা।
তবে এখনো প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংগঠনিক অবস্থা ও জনমত বিবেচনায় কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ঐতিহাসিক ও কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতেও এ আসনের নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করেছে। ফলে এখানে প্রার্থী নির্বাচন দলীয় কৌশল ও রাজনৈতিক বার্তার দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—দুটি আসন থেকেই নির্বাচন করে আলোচনার জন্ম দেন। সেই ধারাবাহিকতায় এই আসনে তাঁর পরিবারের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা—যে-ই প্রার্থী হোন না কেন, তিনি যেন এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন এবং নিয়মিত জনগণের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখেন। ফলে সম্ভাব্য উপনির্বাচনকে ঘিরে যেমন রাজনৈতিক আলোচনা বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও।