নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় বড়াল নদে অবৈধভাবে মাটি খননের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নদের তীর ও তলদেশ থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে । এতে নদের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবৈধ এই খননের ফলে বড়াল নদের বিভিন্ন অংশে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের জামনগর ইউনিয়ন শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রায়হান রেজা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রকাশ্যে নদী থেকে মাটি কাটছে। শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে বাজিতপুর এলাকার এক ব্যক্তিকে গাড়িসহ দেখতে পাই। তিনি শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটাচ্ছিলেন। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড দ্রুত বন্ধ করার জোরালো দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম লায়া, যিনি বাজিতপুর এলাকার কাইমুদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত লায়া অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘আমি ছয় গাড়ি মাটি কেটেছি। বাঁশবাড়িয়ার শিমুলের নির্দেশে কাজটি করেছি। এটি যে ভুল হয়েছে, তা স্বীকার করছি।’
অন্যদিকে অভিযুক্ত শিমুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন বলেন, ‘নদ থেকে কোনোভাবেই মাটি কাটার অনুমতি নেই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, তবে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পরিবেশবিদদের মতে, অবৈধভাবে খননের কারণে নদের নাব্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বড়াল নদকে অবৈধ দখল ও খননের হাত থেকে রক্ষা করবে।