নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক নেতার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা পাবনা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের তথ্য-গবেষণা সম্পাদক আবু সাইয়িদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নিতে যান। এ সময় তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শুক্রবার বিকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বের হওয়ার সময় পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সাঁথিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র সিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক এবং পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি শাহীন হোসেন।
পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাঁথিয়া থানার একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
গত বছরের ১২ এপ্রিল সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদসহ ১৬৪ জনের বিরুদ্ধে পাবনার বেড়া মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। মামলায় আবু সাইয়িদকে এক নম্বর আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১ এপ্রিল বিকালে বেড়া পৌর এলাকার কাগমাইরপাড়ায় আবু সাইয়িদের বাড়িতে তার নেতৃত্বে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগে ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করেন। এসময় প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র, পিস্তল, বন্দুকসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে দেশবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন বাকশালের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সাইয়িদ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালে পাবনা-১ আসনে তাকে বাদ দিয়ে শামসুল হক টুকুকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। পরে, ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি গণফোরামের প্রার্থী হয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। এরপর, ২০২৪ সালের রাতের ভোটের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আবারো পরাজিত হন তিনি।