ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ। মঙ্গলবার সকাল থেকে সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বাস, প্রাইভেটকার, ট্রাক, মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছে ঈদে ঘরমুখো মানুষ। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যানজটের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। মানুষ মোটামুটি নির্বিঘ্নেই বাড়ি ফিরছে।
সিরাজগঞ্জ জেলায় ৯০ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। এর মধ্যে যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বর থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ২২ কিলোমিটার মহাসড়ক দিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া ঢাকা-পাবনা, ঢাকা-বগুড়া ও হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক রয়েছে সিরাজগঞ্জের মধ্য দিয়ে। এ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে। এতে যাত্রীরা তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন।
যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়ের গোলচত্বর এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু। তিনি জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা পুলিশের প্রায় এক হাজার ২০০ সদস্য কাজ করছেন। সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে, যাতে যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করতে পারে। পাশাপাশি মহাসড়কে কোনো গাড়ি বিকল হলে দ্রুত মেরামতের জন্য আলাদা টিম রাখা হয়েছে। চাকা ফেটে যাওয়া বা জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে, যাতে কোনো যানবাহন দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে না থাকে।
এর বাইরে তিনটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি টিমে ৯ জন করে সদস্য রয়েছেন, যারা সড়কের যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছেন।
তিনি আরো জানান, যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলও বেড়েছে। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার যানবাহন পারাপার হলেও সেই সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। সময় যত এগোবে, চাপ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হানিফ এন্টারপ্রাইজের যাত্রী কামাল হোসেন বলেন, মহাসড়কের অবস্থা খুব ভালো। ৫ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জে আসলাম। গাড়ির গতি বেড়েছে। কোথাও যানজট ছিল না। এ অবস্থা থাকলে মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবে।
বাসচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে আসলাম। কোনো যানজট নেই। সিরাজগঞ্জ অংশে ফোর লেন চালু থাকায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা নেই।