রাজশাহীর পুঠিয়ায় ঈদগাহ মাঠের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির স্থানীয় দলীয় কার্যালয় ও একটি দোকান ভাঙচুরসহ আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বাঁশপুকুরিয়া দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বেলপুকুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও বিএনপি সমর্থক আব্দুল ওয়াহেদ এবং একই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মমিনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত।
শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এ বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর আগে সন্ধ্যায় মমিনের ভাতিজা খোরশেদ ও তার ছেলে জয় বাঁশপুকুরিয়া বাজারে এলে আব্দুল ওয়াহেদ মেম্বার, তার ভাই আবু সাইদ এবং ছেলে জয় ও সোহানসহ তাদের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। হামলায় খোরশেদ ও জয় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে জখম হন।
স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন ।
এদিকে, হামলার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মমিনের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁশপুকুরিয়া বাজারে পাল্টা হামলা চালান। তারা ওয়াহেদ মেম্বারকে না পেয়ে তার ভাতিজা আনিসুর রহমানের কীটনাশকের দোকান এবং ওয়াহেদ মেম্বারের গ্রুপ নিয়ন্ত্রিত বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। খবর পেয়ে বেলপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে বেলপুকুর থানার অসি মামুনুর রশিদ বলেন, ঈদগাহ মাঠের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।