হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

আদমদীঘিতে দুই বছরেও শেষ হয়নি ১০ কিমি সড়কের সংস্কারকাজ

সবুর শাহ্ লোটাস, বগুড়া

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার চাপাপুর-নশরতপুর ভায়া বিহিগ্রাম সড়ক এখন স্থানীয়দের কাছে দুর্ভোগের আরেক নাম। প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের সংস্কার ও সম্প্রসারণকাজ দুই বছরেও শেষ হয়নি। উল্টো নিম্নমানের কাজের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে এই পথে চলাচল করা ১০ গ্রামের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যোগসাজশে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রভাবশালী ঠিকাদারের কারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলেও দাবি তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটি সংস্কার ও উভয় পাশে তিন ফুট করে মোট ছয় ফুট প্রশস্ত করার জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। খাগড়াছড়িভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড’ ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ কম দর দিয়ে কাজটি পায়। পরে প্রতিষ্ঠানটি কাজটি বগুড়ার ঠিকাদার আজিজুল হক মিঠুনের কাছে বিক্রি করে দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের মে মাসে কাজ শুরু হলেও কিছুদিন পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কয়েক দফা ঠিকাদার পরিবর্তন হলেও কাজের অগ্রগতি তেমন দেখা যায়নি। সম্প্রতি আবার কাজ শুরু হলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজে নিম্নমানের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছে।

সড়কসংলগ্ন বড় ঝাখইড় গ্রামের মুদিদোকানি আনিছার রহমান অভিযোগ করেন, ‘সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, কিছুদিন আগে ভ্যানে আসার সময় গর্তে পড়ে ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পাই। এখনো চিকিৎসা নিচ্ছি।’

বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়া, হোসেন আকন্দ ও হামিদ আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, কাজে তিন নম্বর ইটের খোয়া ও পুরোনো রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সড়কটি বেশি দিন টিকবে না।

এলাকাবাসীর দাবি, বারবার আপত্তি জানানোর পরও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার বন্ধ হয়নি। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয়ের পাশাপাশি অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবার চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চাপাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হিটলু বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। কাজের ধীরগতি ও মান নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। উপজেলা প্রকৌশলীকে অভিযোগও করা হয়েছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা হতাশাজনক। তিনি আরো বলেন, নিম্নমানের অভিযোগে ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যান। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয়রা।

তবে আদমদীঘি উপজেলা প্রকৌশলী রিপন সাহা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে, এটি সত্য। তবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। অবশ্য বাইরে থেকে খোয়া আনার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।

বর্তমানে কাজটি করছেন বগুড়া শহরের ঠিকাদার বাদল সিদ্দিকী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় মিটিংয়ে আছি। ফিরে এসে কথা বলব।

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবের কারণেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা দ্রুত সড়কটির কাজ শেষ এবং মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিয়ামতপুরে একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

কোরবানির পশু ক্রেতাদের পছন্দ গারো পাহাড়ের গরু

চলনবিলের হাটবাজারে মাছ ধরার চাঁই বিক্রির ধুম

রাজশাহী থেকে সারা দেশে বাসযোগাযোগ বন্ধ

প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ম বদল, অভিযোগ হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে

দুদকের মামলায় গোদাগাড়ীর সাবেক সমবায় কর্মকর্তার জেল

তাড়াশে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু

সান্তাহারে বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ শুরু

মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ আদালতের

বগুড়ার নবাব, রাজা ও সাতানিবাড়ী নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগ