শঙ্কায় কাটছে দিন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ধানের মারাত্মক রোগ ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলার রহনপুর, রাধারনগর ও পার্বতীপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এ রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে ফলন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও শঙ্কায় দিন কাটছে চাষিদের।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রথমে জমির কিছু অংশে রোগের লক্ষণ দেখা দিলেও কয়েক দিনের মধ্যেই তা দ্রুত পুরো ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। পাতার আগা হলুদ হয়ে পরে ধীরে ধীরে বাদামি রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরো গাছই দুর্বল হয়ে পড়ে মারা যাচ্ছে। এতে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং শীষে দানা পূর্ণতা পাচ্ছে না।
কৃষক জনি বলেন, “প্রথমে জমির এক পাশে রোগ দেখা দিলেও কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকবার ওষুধ প্রয়োগ করেও তেমন কোনো উপকার পাইনি।”
অন্যদিকে কৃষক জাহাঙ্গীর বলেন, “ধানের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এবার ফলন ভালো হবে কি না তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। খরচ বাড়ছে, কিন্তু ফলন নিয়ে নিশ্চিত না।”
উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, হলদে হয়ে যাওয়া ধানক্ষেত যেন কৃষকের উদ্বেগের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। অনেক কৃষকই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন—কীভাবে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করবেন, সে বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন বলেন, অনুকূল আবহাওয়া, জমিতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকা, অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।
তিনি আরও জানান, আক্রান্ত জমিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন, সুষম সার প্রয়োগ, রোগ প্রতিরোধী জাতের ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব।
এদিকে কৃষকদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদার করা জরুরি। তা না হলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ফলন বিপর্যয় ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন গোমস্তাপুরের হাজারো কৃষক।