গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার খামার পবন তাইড় গ্রামে নাতির ছুরিকাঘাতে দাদি নিহত ও দাদা গুরুতর আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোছা. ফেরেজা বেগম (৬৫)। গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী আব্দুল করিম। অভিযুক্ত নাতি শাকিল (১৯) একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাকিল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। বুধবার দুপুরে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার বিষয় নিয়ে দাদা-দাদির সঙ্গে শাকিলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে দাদা ও দাদিকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে আব্দুল করিম ও ফেরেজা বেগম ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে শাকিলকে আটক করে সাঘাটা থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।
এদিকে স্থানীয়রা আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে ফেরেজা বেগম মারা যান। আহত আব্দুল করিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাঘাটা থানার পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং নিহতের লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।