অবৈধ বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশ করায় আমার দেশ-এর গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রতিনিধির বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। হামলায় পরিবারের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মামলা করেছেন।
এদিকে, পাল্টা মামলা দিয়ে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
ভুক্তভোগী মো. রিয়াদুন্নবী রিয়াদ আমার দেশ পত্রিকার গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রতিনিধি। তার অভিযোগ, গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় একদল ব্যক্তি তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় তার বাবা ইলিয়াছ আলী, মা মোসলেমা বেগম এবং ফুফু কোকিলা বেগম আহত হন। গুরুতর জখম কোকিলা বেগমকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
রিয়াদুন্নবী অভিযোগ করেন, গত ১৯ জানুয়ারি ‘গঙ্গাচড়ার তিস্তা নদীতে বালু উত্তোলন, হুমকিতে বাঁধ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই একটি প্রভাবশালী বালুখেকো চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ঘটনার সময় তিনি গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে সহকর্মীদের নিয়ে থানায় গেলে ওসিকে না পেয়ে ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রেস ক্লাবের প্রচার সম্পাদক বেনজুম আলী বেনজির বলেন, ‘হামলার সময় রিয়াদ ঘটনাস্থলে ছিলেন না। আমরা তখন গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবে বসে ছিলাম। এটি পরিকল্পিত হামলা।’ গ্রামবাসী সোহেল রানা, মোস্তাফিজুর রহমান ও জান্নাতী বেগমও একই বক্তব্য দিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ ঘটনায় রিয়াদুন্নবী বাদী হয়ে গত ১৮ মার্চ তাজু মিয়া, রাজু মিয়া, আজিবর রহমান, রিপন মিয়া, আলেফ উদ্দিন ও তাজমিনা বেগমসহ কয়েকজনকে আসামি করে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার দুদিন পর ২০ মার্চ তাজমিনা বেগম সাংবাদিক রিয়াদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন, যেখানে জমিজমা বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ আনা হয়।
তবে রিয়াদুন্নবী রিয়াদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার সঙ্গে অভিযুক্তদের জমির বিরোধ নেই এবং ঘটনার সময় তিনি থানায় ছিলেন, যা সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণ হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশ করায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে হয়রানি করতে পরিকল্পিতভাবে এ মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, এর আগে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছিল, যেখানে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন আসামি ছিলেন। ওই মামলার আসামিরাই সংঘবদ্ধ হয়ে এ হামলা চালায়।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুর ছবুর বলেন, উভয় পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।