বন্ধ হওয়ার ১ মাস ২২ দিন পর দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে পুরোদমে পাথর উত্তোলনের কাজ শুরু হয়।
এর আগে ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুরিয়ে যাওয়ায় ৫২ দিন আগে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানি করায় আজ শনিবার থেকে তা চালু হলো।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমজাদ হোসেন।
তিনি বলেন, বিস্ফোরক দ্রব্যের (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পাথর উত্তোলের কাজ সাময়িক বন্ধ ছিল। শনিবার সকাল থেকে পাথর উত্তোলন পুরোদমে শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৮৮ মেট্রিকটন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরক দ্রব্য খনিতে পৌঁছেছে, যা দিয়ে আড়াই মাস পাথর উত্তোলনের কাজ চলবে। মোট ৩০০ মেট্রিকটন বিস্ফোরক দ্রব্যের চাহিদা দেওয়া রয়েছে, বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে আসবে।
জানা গেছে, খনি কর্তৃপক্ষ সময়মতো বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় খনির ভূগর্ভে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সংকটের কারণে এর আগেও কয়েক দফা মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। বিস্ফোরকের অভাবে প্রথমবার ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে ২ মাস, ২০১৮ সালে ৭ দিন, ২০২৪ সালে পাথরের ইয়ার্ডে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় ২ মাস এবং ২০২৫ সালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক মাস খনির পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২৫ মে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তিন শিফটে পাথর তোলার কাজ করছেন প্রায় ৭৫০ জন শ্রমিক।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে ছয় বছরের পুনঃচুক্তি করে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (মধ্যপাড়া পাথর খনি) কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী, খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর তুলছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
এমএইচ