সৈয়দপুরে ২৪ বিহারি ক্যাম্প
নীলফামারীর সৈয়দপুরের ২৪ বিহারি ক্যাম্পে ২৪টি সরকারি বিদ্যুতের মিটার স্থাপন করা হয়েছে। ১১ বছর ধরে এসব মিটারের বিল পরিশোধ করা হচ্ছে না। প্রতি মাসে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ। গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বকেয়ার বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যাম্পে সরাসরি লাইন থেকে সংযোগ নিয়েও বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই সংযোগ যাতে বিচ্ছিন্ন বা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা না ঘটে, সে জন্য ২৪ ঘণ্টা চালানো হচ্ছে ফ্যান। শহরের হাতিখানা এলাকার ঘিঞ্জি বিহারি ক্যাম্পের গলিতে ঢুকতেই দেখা যায় ছোট ছোট টিনের ঘর, ভেতরে ফ্যান ও বাল্ব চালু রয়েছে। কারো কারো ঘরে চলছে এলইডি টিভি, ফ্রিজ। কিন্তু এই বিদ্যুৎ সংযোগের কোনো মিটার নেই। পাশের খুঁটি থেকে নেওয়া হয়েছে সরাসরি সংযোগ। একই চিত্র সৈয়দপুরের অন্যান্য বিহারি ক্যাম্পেও। কিন্তু ২০০৮ সালের ১৮ মে হাইকোর্টের রায়ে বিহারিদের নাগরিকত্ব স্বীকৃতির পর ধীরে ধীরে সেই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে দিনে দিনে বাড়ছে বকেয়া।
সৈয়দপুরের হাতিখানা ক্যাম্পের বাসিন্দা শাহীন বলেন, ‘আমরা মাসে কিছু টাকা দেই, কিন্তু সেটা বিদ্যুৎ অফিসে যায় কি না জানি না। নিজের নামে মিটার নেওয়ার সুযোগও পাই না।’
সৈয়দপুর ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজিদ ইকবাল বলেন, ‘আমরা সরকারের ফ্রি বিদ্যুৎ চাই না; বিদ্যুৎ বিল দিতে চাই। আমাদের ১১ দফা দাবি মেনে সম্মানজনক পুনর্বাসন করলে এই সমস্যার সমাধান হবে।’
মানবাধিকারকর্মী আশরাফুল হক বাবু জানান, ‘সমস্যার মূল কারণ পরিকল্পনার অভাব। ক্যাম্পগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নগরকাঠামোর মধ্যে না আনায় বিদ্যুতের সংযোগও অনানুষ্ঠানিক রয়ে গেছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, বাসিন্দারাও ঝুঁকির মধ্যে থাকছে।’
নেসকো সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পে সরকারিভাবে একটি করে মিটার আছে। ক্যাম্পগুলোর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিল পরিশোধ করবে। যেহেতু ক্যাম্পের বাসিন্দারা এখন বাংলাদেশের নাগরিক, তাই তারা ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিলের দায়ভার আর নেবে না।
জেডএম