ভারতীয় হিন্দুত্ববাদ কুড়িগ্রামে
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় একটি বাজারে গরুর গোশত বিক্রি বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, অদৃশ্য চাপ ও প্রভাবের কারণে ট্রেড লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও গোশত ব্যবসায়ীদের গরুর গোশত বিক্রি করতে দেওয়া হচ্ছে না।
জানা গেছে, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনীরপাঠ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে গরুর গোশত বিক্রি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দুই গোশত ব্যবসায়ী সালাম ও সিদ্দিক এবং ডাকনীরপাঠ মসজিদ মার্কেটের মালিক আজিজুল হককে নাগেশ্বরী থানায় ডেকে নিয়ে গরুর গোশত বিক্রি না করার জন্য বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বাজারে গরুর গোশত বিক্রি বন্ধ থাকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোক্তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। আশপাশে কোনো বিকল্প দোকান না থাকায় তাদের কয়েক কিলোমিটার দূরের বাজারে গিয়ে গোশত কিনতে হচ্ছে। এখানে গরু জবাই হলে তারা সহজে গোশত কিনে খেতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ডাকনীরপাট বাজার অবস্থিত। এলাকাটিতে জনসংখ্যায় পাঁচ হাজার জনের মধ্যে প্রায় চার হাজার জনই ইসলাম ধর্মাবলম্বীর বসবাস।
স্থানীয়রা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক ও হিন্দুদের চাপে এখানে গরু জবাই ও গোশত বিক্রি করতে দেওয়া হয়নি। কিছু প্রভাবশালীদের মদদে এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, থানায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কেট মালিক নিজেই এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে গরুর গোশত বিক্রি না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
তবে এই বক্তব্য অস্বীকার করে মার্কেট মালিক আজিজুল হক দাবি করেন, আমি থানায় গিয়ে দেখি লোকে-লোকারণ্য। ওসি সাহেব দেরি করছেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আরো একজন আসবেন তারপর বৈঠক বসবে। এরপর উপজেলা বিএনপি গোলাম রসুল রাজা আসেন। একপর্যায়ে একপক্ষের কথা শুনে ওসির টেবিল চাপড়ে তিনি বলেন, পূর্বে ওই বাজারে গরুর গোশত বিক্রি হয়নি, এখনো হবে না। এটা আমাদের বিএনপির সিদ্ধান্ত, তারেক জিয়ার সিদ্ধান্ত।
নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, না। ওখানে কথা হয়েছে তারেক রহমানের দল বিএনপি ক্ষমতায় আছে। আমরা কোনোভাবেই হিন্দু মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা হতে দেব না। সবার সম্মতিক্রমে ওখানে গরুর গোশত বিক্রয় বন্ধ রাখা হয়েছে।
ডাকনীরপাঠ বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও ভিতরবন্দ ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাইদুল ইসলাম বলেন, জুমার খুতবায় এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুসল্লিদের অভিযোগ, তারা (হিন্দু) যদি বাজার সংলগ্ন মন্দিরে বাঁধাহীনভাবে পাঠা বলি দিয়ে খেতে পারে, তাহলে আমরা মুসলিম হয়ে মসজিদের পাশে জবাই করা গরুর গোশত কিনে খেতে পারব না? স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য গয়ানাথ জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন।