বিএনপিতে যোগ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। একাধিক হত্যা ও নাশকতা মামলার পলাতক আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ইটাখোলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, হেদায়েত আলী শাহ ফকির পতিত স্বৈরাচারী শাসনামলে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রকাশ্যে বিরোধীদলীয় এজেন্টদের ওপর হামলা চালিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেন এবং কেন্দ্রজুড়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারার উৎসব শুরু করেন।
এছাড়া চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার বহু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নীলফামারী সদরের রামগঞ্জ বাজার এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত ও ভয়াবহ ‘রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি’ হত্যাকাণ্ডেও হেদায়েত আলী শাহ ফকির প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনায় অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে আসামি করে বছরের পর বছর জেল, রিমান্ড ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়, ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের ঘটনায়ও তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন জেলা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, রাজনৈতিক কার্যালয় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়। ৫ আগস্ট পতিত স্বৈরাচার দেশত্যাগের পর হেদায়েত আলী শাহ ফকিরসহ একাধিক আওয়ামী সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়।
হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য মামলাসমূহ হলো— রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি হত্যা মামলা, এজাহারনামীয় আসামি, মামলা নং জিআর-৩২০/২৪, সদর থানা। ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলার এজাহারনামীয় আসামি, মামলা নং জিআর-২৬৯/২৪, সদর থানা। ৪ আগস্ট জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা জিআর-২৬৭/২৪, সদর থানা। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অন্যান্য সহিংসতা ও নাশকতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাকে আদালতে হাজির করে জেল হাজতে পাঠানো হবে।