হোম > সারা দেশ > রংপুর

চিলমারীর চারণভূমি এখন ধু-ধু বালুচর

সিদ্দিকুল ইসলাম, চিলমারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের চিলমারীর চারণভূমি এখন ধু-ধু বালুচর। খাদ্য সংকটে গবাদিপশু। ছবি: আমার দেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের বরফ গলে নদীর পানির প্রবাহ বেড়েছে এবং তা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামের চিলমারীর বিশাল অংশের চারণভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যে জমিগুলো একসময় ঘাসে পরিপূর্ণ ছিল এবং গরু-মহিষ চরানোর জন্য ব্যবহৃত হতো, তা এখন পানির নিচে বা নদীতে হারিয়ে গেছে। এছাড়া বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জমিতে পলিমাটির বদলে বালুর পুরু আস্তরণ পড়ছে। বালুময় মাটিতে স্বাভাবিক ঘাস বা গবাদিপশুর খাওয়ার উপযোগী লতাপাতা জন্মাতে পারে না। ফলে একসময়ের উর্বর চারণভূমি এখন ধু-ধু বালুচরে পরিণত হচ্ছে। এতে মহিষ পালনের পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতি বছর কমছে মহিষের সংখ্যা। যা স্থানীয় দুধ, দই ও মাংস উৎপাদন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তবে, চরাঞ্চলে নির্দিষ্ট চারণভূমি সংরক্ষণ ও সমন্বিত পশুপালন পরিকল্পনা নেওয়া হলে মহিষ পালন আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এক দশক আগে চিলমারীতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মহিষ থাকলেও গত তিন বছরে এর সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। মহিষ কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দুধ, দই ও মাংসের সরবরাহও হ্রাস পাচ্ছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, একসময় আমার বাড়িতেই ৮০ থেকে ৯০টি মহিষ ছিল। এখন চারণভূমির অভাবে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র পাঁচটিতে। শুধু আমার পরিবার নয়, পুরো এলাকার চিত্রই একই।

কড়াই বরিশাল গ্রামের মহিষ পালক জেল হক জোদ্দার বলেন, আগে চরের মাঠে মহিষ ছেড়ে দিলেই সারাদিন চরে ঘাস খেত। এখন চারপাশে আবাদ, বেড়িবাঁধ আর বসতি, মহিষ রাখার জায়গা নেই, তাছাড়া ভুট্টা চাষে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করে ঘাস মেরে ফেলা হচ্ছে।

চিলমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাগরিকা কার্জ্জী বলেন, মহিষের দুধ গরুর দুধের তুলনায় বেশি পুষ্টিকর এবং মহিষের মাংসে কোলেস্টেরল কম থাকায় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। তবে চারণভূমির সংকটে মহিষ পালন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চরাঞ্চলে নির্দিষ্ট চারণভূমি সংরক্ষণ ও সমন্বিত পশুপালন পরিকল্পনা নেওয়া হলে মহিষ পালন আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

জলবায়ু ও নদী তথ্য বিশ্লেষক জাহানুর রহমান বলেন, চিলমারীর মতো নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন সরাসরি মানুষের জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, অনিয়মিত বন্যা ও বালুচর সৃষ্টির ফলে একসময়কার উর্বর চারণভূমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে মহিষসহ পশুপালন সংকটে পড়ছে, কমছে দুধ, দই ও মাংস উৎপাদন, আর চরবাসীর আয় ও জীবনযাত্রা দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক চারণভূমি রক্ষা করা না গেলে শুধু চিলমারী নয়, পুরো জেলার মহিষ পালনই ঝুঁকির মুখে পড়বে। আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে চরভিত্তিক সমন্বিত পশুপালন মডেল চালু করার চেষ্টা করছি।

শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কায় পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম

ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলনের দাবি

নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করছেন পাঁচবিবির গ্রামবাসী

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে স্মৃতি খাতুনের সাফল্য

বদরগঞ্জে মাদক ও জুয়া বন্ধের দাবিতে র‍্যালি ও পথসভা

সৈয়দপুরে মুক্ত আকাশে ডানা মেলল ২২ পাখি

কাউনিয়ার রতন হত্যা: দুই জেলা থেকে ৩ আসামি গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের ইজতেমায় গোর-এ-শহীদ ময়দানে জুমার নামাজ আদায়

পীরগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলে আগুন

তিস্তার চরে ভুট্টার বীজ বুনে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নারীদের