ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি হু হু করে বাড়ছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। যেকোনো সময় এই সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকাল ৬টায় হাতীবান্ধায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ভারত থেকে প্রবল গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসার কারণে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিতে জেলার মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, কয়েক দিন ধরে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেখান থেকে ধেয়ে আসছে পানি। এতে করে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ বেড়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে ডালিয়া পয়েন্টে পানি কমে গেলেও শনিবার সকাল থেকে আবারও বাড়তে শুরু করেছে। পানির প্রবাহ ক্রমান্বয়ে বাড়তে শুরু করতে থাকায় তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যেকোনো সময় পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে নদীপাড়ের হাজার হাজার পরিবার।
নদীপাড়ের মানুষ জানায়, লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে তিস্তা নদী বয়ে যাওয়ায় নদীতে সামান্য পানি বাড়লে জেলার সব উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়।
জেলা বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো সময় নদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এ জন্য তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
গড্ডিমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোবারক আলী বলেন, ভারত থেকে প্রচুর পানি আসছে। যেকোনো সময় নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে পারে ।
তিস্তা ব্যারাজের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, শনিবার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে।
পাউবোর লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ভারত থেকে পানি আসায় তিস্তার পানি বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। তাই এসব অঞ্চলের জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।